মহিপালের রক্তাক্ত দুপুর এখনো শুকায়নি ক্ষত
- ৪ আগস্ট গুলিতে শহীদ হন সাতজন আহত হন দুই শতাধিক
- ২২ মামলায় প্রায় আড়াই হাজার আসামির অধিকাংশই পলাতক

ফেনীর মহিপাল, ৪ আগস্ট-২০২৪
আগস্ট এলেই ফেনীর মহিপাল যেন আবার ফিরে যায় এক রক্তাক্ত দুপুরে। এখনো শুকায়নি পুরনো ক্ষত। বরং আরও স্পষ্ট হয়েছে হারানোর বেদনা, বিচারের প্রতীক্ষা আর অপূর্ণ স্বপ্নের দীর্ঘশ্বাস। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিকে ঘিরে গুলিতে শহীদ হন সাতজন। আহত হন দুই শতাধিক মানুষ। ঘটনার পর ২২টি মামলায় প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে আসামি করা হলেও এখনো অধিকাংশ পলাতক। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের ৪ আগস্ট শুধু শোকের দিন নয়, ন্যায়বিচারের অপেক্ষার আরেকটি দিন।
সেই রক্তাক্ত দিনের পর সময় এগিয়েছে; কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। নিহতদের পরিবার বলছে, সময় যতই পেরিয়ে যাক, তাদের কাছে প্রতিটি দিন একই প্রশ্ন নিয়ে ফিরে আসে— অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার কবে শেষ হবে?
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফেনী মডেল থানা-পুলিশের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শেষ দিক থেকেই ফেনীতে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। ৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী মহিপাল উড়ালসেতুর নিচে অবস্থান নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ট্রাংক রোডের শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে মহিপালের দিকে অগ্রসর হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮০০-৯০০ অস্ত্রধারী ব্যক্তি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় অতিক্রম করার পর থেকেই উড়ালসেতু এলাকার দিকে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। শহীদ হন সাতজন। তাদের মধ্যে ছিলেন ছাইদুল ইসলাম শাহী, ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ, ওয়াকিল আহমেদ শিহাব, মো. সরোয়ার জাহান মাসুদ, জাকির হোসেন শাকিব, টমটমচালক মো. সবুজ এবং বীমাকর্মী আব্দুল গণি বোরহান।
এ ঘটনার পর আইনিপ্রক্রিয়াও শুরু হয়। সাতটি হত্যা মামলা, ১৫টি হত্যাচেষ্টাসহ করা হয় ২২টি মাম লা। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ফেনীর সাবেক তিন সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ প্রায় আড়াই হাজার ব্যক্তিকে।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও একই ধরনের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিমের ভাষ্য, ‘তিনটি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে আদালতে। আরও কয়েকটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে। দ্রুতই দাখিল করা হবে অভিযোগপত্র। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অব্যাহত রয়েছে অভিযান।’






