আগামীর সময়

জলাবদ্ধতায় ৬০ লাখ মানুষ বিপাকে, টিআরএমে জোর

  • ধান-মাছ চাষে বিপর্যয়
  • বসবাস সংকট
  • পোল্ডার, পলি ও পরিকল্পনার সংকট
জলাবদ্ধতায় ৬০ লাখ মানুষ বিপাকে, টিআরএমে জোর

ছবিঃ আগামীর সময়

খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। গত ৩৫-৪০ বছরের মধ্যে এই সমস্যা তীব্র হয়ে উঠেছে ক্রমশ। বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বাড়ছে জলাবদ্ধতার প্রভাব। ফলে নিচু এলাকায় দেখা দিয়েছে বসবাস সংকট, ধান ও মাছ চাষে ব্যাপক ক্ষতি এবং কর্মসংস্থানের সংকট।

জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় অঞ্চলটিতে নদ-নদী খনন ও জোয়ার-ভাটা (টিআরএম) পদ্ধতি চালুর দাবি বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ ও পানি কমিটির। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অববাহিকায় দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়ন করা, টিআরএম বিলের অধিবাসীদের জন্য সহজ ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা এবং সব কার্যক্রমে জনগণ ও স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের কথা বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

‘জলাবদ্ধতার মূল কারণ পলি দ্বারা নদী ভরাট হওয়া। জোয়ারে আসা পলি প্লাবনভূমি বা বিলের পরিবর্তে নদীবক্ষে গিয়ে পড়ে। ফলে নদীর বুক প্লাবনভূমি থেকে উঁচু হয়ে যায়। ফলে বর্ষার সময় পানি পোল্ডারে আটকে পড়ে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়’, লিখিত বক্তব্যে বলছিলেন কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি আব্দুল মতলেব সরদার।

তার ভাষ্য, বছরে ৬ থেকে ৯ মাস কোনো কোনো বিল সবসময় জলমগ্ন থাকে। ফলে নিচু এলাকায় বসবাস, চাষবাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট লেগেই থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, পলি সমস্যায় ক্রমশ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে উপকূলীয় নদীগুলো। যশোর অঞ্চলের টেকা-মুক্তেশ্বরী, আপারভদ্রা, বুড়িভদ্রা ও হরিহর, শিবসা ও কড়ুলিয়া নদী এবং সাতক্ষীরা জেলার কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, সাপমারা, লাবণ্যবতী, গলঘেষিয়া ও খোলপেটুয়া নদীর কথা উল্লেখ করেন তারা। জানান, সুন্দরবনের বনভূমি ও নদী-খালগুলোয় ব্যাপকহারে পলি জমে পরিবেশের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটছে।

অপরদিকে, ব-দ্বীপ অঞ্চলের ভূমি ক্রমাগত দেবে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে। পোল্ডার ব্যবস্থার কারণে স্বাভাবিক ভূ-গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে, ফলে ব-দ্বীপের প্রাকৃতিক ভূমি গঠন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা মনে করিয়ে দেন, ১৯৯১ সালে জনগণের উদ্যোগে বিল ডাকাতিয়া এবং ১৯৯৭ সালে ভবদহ অঞ্চলের হরি অববাহিকার ভায়না বিলে জোয়ার-ভাটা (টিআরএম) পদ্ধতি চালু হয়। পরে সরকারিভাবে সমীক্ষার ভিত্তিতে এ পদ্ধতি কার্যকর বিবেচনা করে ২০০২ সালে বিল কেদারিয়া, ২০০৬ সালে খুকশিয়া বিল এবং ২০১৫ সালে কপোতাক্ষ অববাহিকার তালা উপজেলার পাখিমারা বিলে এটির বাস্তবায়ন হয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হয়।

তবে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বর্তমানে সব অববাহিকায় টিআরএম কার্যক্রম বন্ধ। বক্তারা জানাচ্ছেন, বাস্তবতা হলো— টিআরএম ছাড়া এ সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হাশেম আলী ফকির, মো. রেজাউল করিম, সেলিম আক্তার স্বপন, জিল্লুর রহমান, শেখ মোশারফ হোসেন প্রমুখ।

    শেয়ার করুন: