মিয়া গোলাম পরওয়ার
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্রীয় সংস্কার অসম্ভব

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’
আজ শুক্রবার রাতে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের শনিবারের বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে এ কথা বলেছেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জনগণের আত্মত্যাগ ও রক্তদানের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যদি আবারও একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কর্তৃত্ববাদী শাসনে রূপ নেয়, তবে তা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হবে। রাষ্ট্র কাঠামোতে মৌলিক সংস্কার নিশ্চিত না হলে অতীতের রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকে যাবে।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন দেখেছিল, তার আইনি ভিত্তি ছিল জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন।’
তিনি দাবি করেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণভোটের সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছে, যা রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সরকারের নীতি-পরিকল্পনার সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছিলেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘সরকারের মেয়াদের শুরুতেই কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ এমপি, সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান ও সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন।






