চাঁপাইনবাবগঞ্জ
এবারও নেই ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার, পাকলেই নামবে আম

দেশের আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমেও থাকছে না ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ বা আম পাড়ার নির্ধারিত সময়সূচি। ফলে গাছে আম পরিপক্ব হলেই তা পেড়ে বাজারজাত করতে পারবেন চাষিরা। তবে অপরিপক্ব আম বাজারজাতের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (১১ মে) বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ’বিষয়ক মতবিনিময় সভায় নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত।
সভায় আমচাষি, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও আম গবেষকদের মতামতের ভিত্তিতে গত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ না করার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গি জানালেন, তিন বছর জেলায় আম ক্যালেন্ডার নেই। এ সময় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। আমচাষি, ব্যবসায়ী, গবেষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতেই এবারও ক্যালেন্ডার না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পুলিশের সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে সঠিক ওজনে আম বিক্রি ও পরিবহনে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি থাকবে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়াগত কারণে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম পাকে তুলনামূলক দেরিতে। জেলার গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি ও ল্যাংড়াসহ জনপ্রিয় জাতের আম বাজারে আসতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
এদিকে আম পাড়ার সময়সীমা বেঁধে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আমচাষিরা। শিবগঞ্জের আমচাষি আহসান হাবীবের ভাষ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাছে পাকা আম বাজারজাত করা হয় বলেই এখানকার আমের আলাদা সুনাম। তাই কৃত্রিমভাবে সময় নির্ধারণের প্রয়োজন নেই।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গির সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক, ম্যাঙ্গো ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক আহসান হাবীবসহ আমচাষি, আড়তদার, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পরিবহন মালিকরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯০০ টন।




