বালিয়াকান্দি
আগাছানাশক স্প্রেতে ধূসর কৃষকের স্বপ্ন

ছবি: আগামীর সময়
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে আগাছানাশক স্প্রের প্রভাবে ৩২ কৃষকের প্রায় ৮ দশমিক ৮৩ একর জমির পাটক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকদের দাবি, নিয়ম না মেনে আগাছানাশক স্প্রে করায় বাতাসে ওষুধ ছড়িয়ে পাশের পাটক্ষেতে গিয়ে লাগে। এতে পাটগাছের পাতা কুঁকড়ে গেছে, স্বাভাবিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত নষ্ট হওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।
উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ধুলাঘাট বিল এলাকার চান মিয়া লিজ নেওয়া জমিতে আগাছানাশক স্প্রে করান। এর কয়েক দিনের মধ্যেই আশপাশের পাটক্ষেতে গাছের পাতা কুঁকড়ে যেতে শুরু করে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ জানালেন, এ বিষয়ে জেনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাতাসে আগাছানাশক ছড়িয়ে পড়ার কারণেই পাটক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হোসেন সেখ অভিযোগ করেন, পেঁয়াজ তোলার পর জমিতে যে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে, তার প্রভাবে আশপাশের ৫০ থেকে ৬০ পাখি জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। তার নিজের প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কৃষক ইজাজুল মল্লিক দাবি করেন, স্প্রে করার সময় শ্রমিকদের নিচু করে ওষুধ প্রয়োগ করতে বলা হলেও তারা তা মানেননি। ফলে বাতাসে ওষুধ ছড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পাটক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে।
অভিযুক্ত চান মিয়া জানান, তিনি তখন মাঠে উপস্থিত ছিলেন না। শ্রমিক দিয়ে ওষুধ স্প্রে করিয়েছেন। কীভাবে স্প্রে করা হয়েছে, তা জানা নেই। তবে কিছুটা ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন। যদিও বড় ধরনের ক্ষতির অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছেন, আগাছানাশক প্রয়োগের সময় আশপাশের ফসলের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করলে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।





