আগামীর সময়

দুইজন গ্রেপ্তার

খুলনায় শ্রমিক নেতাকে হত্যা ‘আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে’

খুলনায় শ্রমিক নেতাকে হত্যা ‘আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে’

সংগৃহীত ছবি

খুলনায় পরিবহন শ্রমিক নেতা মাসুম বিল্লাহকে হত্যা কারণ রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব। হত্যায় অংশ নেয় তিনটি ‘কিলার গ্রুপ’।

প্রাথমিক তদন্তে ও নিহতের স্বজনদের বরাতে এসব জানাল পুলিশ।

মাসুম বিল্লাহ ছিলেন রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক। 

বুধবার রাত ৯টার দিকে নগরীর ডাকবাংলো মোড়ের বাটা জুতার শোরুমে ঢুকে তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত।

স্থানীয়রা তখনই দলের একজনকে অস্ত্রসহ আটকে পুলিশে দেয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয় আরেকজনকে। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, অশোক ঘোষ ও জাভেদ পাটোয়ারী। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না হলেও অস্ত্র আইনের মামলা দিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার দেখায়।

মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় ফের সভাপতি পদে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন মাসুম। এ কারণে প্রতিপক্ষ গ্রুপ ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে হত্যা করিয়েছে- বলছিলেন মাসুমের চাচা মহিউদ্দীন শেখ। 

নিহতের স্বজনদের বর্ণনা, বুধবার দুপুরে স্ত্রী ও ভাতিজার মেয়েকে নিয়ে রূপসা থেকে নগরীতে আসেন। ব্যক্তিগত কাজ সেরে রাতে ডাকবাংলো মোড়ে কেনাকাটার জন্য যান তিনি। সেখানে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। তার পায়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়ে তিনি বাটার শোরুমে আশ্রয় নেন। সেখানে ঢুকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এই বর্ণনা দিয়েছে মাসুমের পরিবার।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাসুমকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিপক্ষ গ্রুপের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরাই তাকে খুন করেছে- জোর দেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. তাজুল ইসলাম।

তার প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য হলো, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া তিনটি কিলার গ্রুপের ছিল ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব। একটি গ্রুপ ছিল গুলি করার জন্য, ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানোর জন্য ছিল একটি গ্রুপ ও আরেকটি ছিল কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের নিরপদে সরিয়ে দেওয়ার জন্য।

‘অস্ত্রধারীসহ সাত-আটজনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করা হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অস্ত্র আইনে খুলনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া ভিকটিমের স্ত্রী বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই হত্যা মামলা দায়ের করবেন’, যোগ করেন তাজুল ইসলাম।

পুলিশের তথ্য, নিহত মাসুম বিল্লাহ দুটি মামলার আসামি। র‌্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তার বড় ভাই রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ২০২০ সালের ৩০ জুলাই র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন।

    শেয়ার করুন: