সিলেটে হামে প্রাণ গেল আরও এক শিশুর

সংগৃহীত ছবি
সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে ৯৮৮ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত না হলেও সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১০৮ জন। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে চিকিৎসাধীন চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর মধ্যে সিলেটে ৩২০ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন রয়েছেন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৫ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন এবং নর্থ ইস্ট হাসপাতালে দুজন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম নিয়ে ৩১৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৩২ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৯ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন চিকিৎসাধীন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম নিয়ে মারা যাওয়া শিশুটির বয়স চার মাস। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে তার নাম শিবান উল্লেখ করা হয়েছে। সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তার বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার সোনাপাড়া এলাকায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। তাই আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।







