ডুয়েটের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের

ছবি- কোলাজ
গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) সংঘর্ষের ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির।
আজ রবিবারের ঘটনায় ছাত্রদলের অভিযোগ, উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে ছাত্রশিবির।
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল, যুবদল ও বহিরাগতরা সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়েছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতি অনুসারে, সম্প্রতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। নিয়োগের পর কিছু শিক্ষার্থী ডুয়েট থেকেই উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
আন্দোলনকারীদের ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছে ছাত্রদল।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ একটি প্রচলিত বিষয়। কিন্তু এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
ছাত্রদলের দাবি, ডুয়েটের বিদায়ী প্রশাসন ও ছাত্রশিবির মিলে রাজনৈতিক উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
অন্যদিকে শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ডুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপিপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং বহিরাগতরা সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়েছে।
শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেন, ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে দলীয় প্রভাবমুক্ত উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিন আন্দোলন করছিলেন। আজ রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদল, যুবদল ও বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।
তাদের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ টিয়ার শেল ও গুলি নিক্ষেপ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ছাত্রশিবিরের নেতারা মন্তব্য করেন, ডুয়েটের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের ‘দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ অংশ বলেও দাবি করেন তারা।




