বিদ্যুৎ বিল দিয়ে অফিসে আর ফিরতে পারলেন না শফিকুল

অফিসের সহকর্মীকে বলে গিয়েছিলেন বিদ্যুৎ বিল দিয়ে একটু পরেই আবার অফিসে আসবেন, কর্মস্থলে ফেরার তাড়া ছিল শফিকুল ইসলামের। কিন্তু একটি অননুমোদিত রেলক্রসিং আর দ্রুতগতির ট্রেন মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দিল সব কোলাহল।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন শফিকুল ইসলাম (৫২) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে কুমারখালী রেলস্টেশন সংলগ্ন ফুলতলা এলাকায় একটি অননুমোদিত রেলক্রসিং পার হচ্ছিলেন শফিকুল ইসলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগামী 'সুন্দরবন এক্সপ্রেস' ট্রেনটি তাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় মোটরসাইকেলসহ তিনি রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
সেখানে দীর্ঘক্ষণ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বিকেল ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শফিকুল ইসলাম কুমারখালী উপজেলার সদকি ইউনিয়নের ঘাসখাল এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি কুমারখালী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) কার্যালয়ে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এলজিইডি কুমারখালী কার্যালয়ের উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল হক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ফুলতলা এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই অননুমোদিত রেলক্রসিংটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। এর আগেও এখানে ছোট, বড় অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে, ঝরেছে প্রাণ। কিন্তু বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও এখানে কোনো গেট বা স্থায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা অন্তর আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, ফুলতলা মোড়টা এখন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ শফিকুল ভাই গেলেন, কাল হয়তো অন্য কেউ যাবে। একটা বৈধ গেট আর গেটম্যান থাকলে আজ মানুষটাকে এভাবে মরতে হতো না।

