পাগলা মসজিদের দানবাক্সে স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা শুরু

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে সংগৃহীত স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ এবং গণনার কার্যক্রম। ছবি: আগামীর সময়
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের দানবাক্সে জমা পড়া স্বর্ণ ও রুপার ওজন নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশভিত্তিক আলাদা করে গণনার কাজ শুরু হয়েছে।
আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখায় সংরক্ষিত ৯টি কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে এ কার্যক্রম শুরু হয়। গণনা শেষে স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নিলামে বিক্রি করা হবে। আর বৈদেশিক মুদ্রা দেশভিত্তিক হিসাব করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, মসজিদে আগত দর্শনার্থীরা নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপার গয়না ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খোলার পর নগদ অর্থ গণনা করা হয়। আর স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা কনটেইনারে ভরে সিলগালা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখায় সংরক্ষণ করা হয়। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এসব মূল্যবান সামগ্রী ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব সম্পন্ন করা হয়।
আজ সোমবারের কার্যক্রমে খোলা ৯টি কনটেইনার ও ছয়টি খামে সংরক্ষিত স্বর্ণ, রুপা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আলাদা করে গণনা করা হবে। স্বর্ণের ক্যারেট অনুযায়ী আলাদা করে ওজন নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি রুপার ওজনও পরিমাপ করা হবে। পরে বাজারমূল্য নির্ধারণ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে এসব মূল্যবান সামগ্রী নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানিয়েছেন, দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ ও রুপার ওজন নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশভিত্তিক আলাদা করার কার্যক্রম সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সময় নিলামে ৪১৫ ভরি ১ আনা স্বর্ণ ও ১৮৪ ভরি রুপা বিক্রি করা হয়। এসব বিক্রি করে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া যায়। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া যায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৭ জুন পর্যন্ত পাগলা মসজিদের দানবাক্স ১৮ বার খোলা হয়েছে। এসব সময়ে পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়। বর্তমানে মসজিদটির তহবিলে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা জমা রয়েছে। মসজিদের আয় ও অনুদানের একটি অংশ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে।
এদিকে, দান কার্যক্রম সহজ করতে পাগলা মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট www.paglamosque.org চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাহায্যে অনুদান দেওয়া যায়। অনলাইনে এ পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
মসজিদটির অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৪ টাকা ব্যয়ে তিনটি নামাজের শেড, অজুখানা ও নারীদের জন্য ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরের অংশে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা প্রণয়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
গণনা কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে ৯ সদস্যের একটি উপকমিটি কাজ করছে। সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসনের ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ৬জন এসআরবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া গণনার কাজে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, মসজিদের কর্মচারী, জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




