আকারে ছোট স্বাদও কম
- পটুয়াখালীতে দুই বছরে উৎপাদন কমেছে ৭১ হাজার টন

সংগৃহীত ছবি
ইলিশের স্বাদ নেই আগের মতো, আকারও ছোট হয়ে যাচ্ছে— এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপকূলের জেলে, গবেষক ও মৎস্য কর্মকর্তারা। তাদের মতে, নদনদীর নাব্যসংকট, পানির গুণগত পরিবর্তন, খাদ্যসংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং নির্বিচারে ছোট ইলিশ আহরণের কারণে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্র। এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদন ও মান— উভয়ের ওপর।
মৎস্য খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন বাড়াতে বছরে তিন দফা মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও গত দুই বছরের ব্যবধানে ইলিশ আহরণ কম হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার টন।
কেন কমছে স্বাদ
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমানের ভাষ্য, নদী দখল, দূষণ এবং পানির গুণগত মানের অবনতির কারণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে ইলিশের খাদ্যাভ্যাসে।
তিনি জানান, ইলিশ তার স্বাভাবিক খাদ্য সংগ্রহের পরিবেশ না পেলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে। ফলে কাঙ্ক্ষিত খাদ্য না পাওয়ায় মাছের শরীরে প্রয়োজনীয় চর্বি জমছে না, যা ইলিশের স্বাদ ও গন্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
‘আগের মতো খাদ্য না পাওয়ার কারণেই এখন অনেক ক্ষেত্রে স্বাদহীন ইলিশ ধরা পড়ছে’— বললেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে নদীতে। এতে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ বদলে যাচ্ছে এবং প্রভাব পড়ছে মাছের খাদ্য উৎপাদনেও।
ড. আনিসুর রহমান বললেন, ‘সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া এবং অসময়ে অতিবৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়া। কয়েক বছর ধরে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন ইলিশের প্রজননে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।’
বড় ইলিশ ধরা পড়ছে কম
ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. এমদাদুল্লাহ মনে করেন, নদীর নাব্যসংকটের কারণে ইলিশ তার ঐতিহ্যগত চলাচলের পথ পরিবর্তন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের একটি বড় অংশ কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে বেশি যাচ্ছে। তার ভাষায়, বলেশ্বর, পায়রা এবং ভোলা-পটুয়াখালীর সোনারচর মোহনার বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ইলিশের স্বাভাবিক অভিবাসন। ফলে তাদের দীর্ঘদিনের খাদ্য ও আবাসস্থলেও পড়ছে প্রভাব। এর ফল হিসেবে ইলিশের আকার, স্বাদ ও গুণগত মানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে কম।
সরে যাচ্ছে আন্তঃসীমানার দিকে
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল হক মনে করেন, ইলিশ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সরে চলে যেতে পারে আন্তঃসীমানার জলসীমার দিকে।




