চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ১

সংগৃহীত ছবি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ‛রাজনৈতিক বিরোধের’ জেরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হয়েছে সংঘর্ষ। নিহত হয়েছেন জামায়াত কর্মী জুয়েলারি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান। দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত ছয়জন।
হাফিজুরের বাড়ি উপজেলার সুটিয়া গ্রামে। তিনি হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের ভাই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে শনিবার রাতের এই সংঘর্ষে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ভর্তি করা হয় যশোর সদর হাসপাতালে।
সেখান থেকে আশঙ্কাজনক হাফিজুরকে রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে আনা হয়। রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক সোলায়মান শেখ।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে নির্বাচনের সময় থেকেই বিরোধ জামায়াত কর্মী সুটিয়া গ্রামের মাহদি হাসানের।
এর জেরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জসিমের বিরুদ্ধে মাহদিকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। দুইপক্ষের মধ্যে দেখা দেয় চাপা উত্তেজনা।
পুলিশকে দেয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শনিবার ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে যাওয়ার পথে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদরাসার সামনে মাহদি ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে হামলা হয় জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমানের ওপরও।
প্রায় ৪০–৪৫ মিনিট পর দুই পক্ষ বাজারে জড়ো হলে শুরু হয় সংঘর্ষ। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলে হামলা। ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় জীবননগর থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল। মধ্যরাত নাগাদ নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।
রাতেই আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ও অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন।
জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দারের অভিযোগ, ‛পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়।’
ইউনিয়ন জামায়াতের মফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানালেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জানিয়েছেন জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক সোলায়মান।
ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে।

