সার ডিলারশিপ না পেয়ে যুবদলের পদ ছাড়ার ঘোষণা নেতার

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সার ডিলারশিপ না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দড়গ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। শনিবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাদ্দাম হোসেনের দাবি, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা দড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং প্রায় চার দশক ধরে সার ব্যবসা করছেন। তবে ২০০৯ সালে সার ডিলার নিয়োগের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের পরিবার বঞ্চিত হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর পর থেকে অন্য ডিলারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে তাদের।
সম্প্রতি নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সাদ্দাম হোসেন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত দড়গ্রাম ইউনিয়নের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. রুহুল আমীন। এতে হতাশ হয়ে দলীয় পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান সাদ্দাম।
ফেসবুক পোস্টে নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ ও প্রতিকূলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সাদ্দামের দাবি, দলের দুঃসময়ে তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একসময় ৯টি মামলা ছিল। এমনকি বাবা-ছেলেকে একসঙ্গে কারাবরণও করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পরও প্রত্যাশিত সুযোগ না পাওয়ার হতাশা থেকে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বললেন, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি সার ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন। উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেই নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বললেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে প্রার্থীর নাম উপজেলা সার ও বীজ কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল। জেলা কমিটি সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে গত ৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয় নতুন ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর সারা দেশের মতো মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায়ও নতুন সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে মো. রুহুল আমীনের নাম রয়েছে।



