বড় উন্নয়নের ঘোষণার আশা ছিল মৌলভীবাজারবাসীর

সংগৃহীত ছবি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি শমসেরনগর বিমানবন্দরটি ফের চালুর দাবি মৌলভীবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের। তারা ভেবেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো তারেক রহমানের মৌলভীবাজার সফরে এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে। একই সঙ্গে প্রত্যাশা ছিল জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণারও। কিন্তু এসবের কিছুই আসেনি প্রধানমন্ত্রীর কথায়। ফলে যে বিপুল আশা, উৎসাহ আর প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয়রা, এক দিনের ব্যবধানে তার গুড়ে পড়েছে বালি।
গত বুধবার মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল সফরে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকালে ভাষণ দেন মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে। তার বক্তব্যে উঠে আসে দেশের গণতন্ত্র, জনগণের ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত।
কিন্তু মৌলভীবাজারের মানুষ শুনতে চেয়েছিলেন শমশেরনগর বিমানবন্দর ফের চালু, মৌলভীবাজারে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, আধুনিক টেকনিক্যাল কলেজ নির্মাণ, শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-কুলাউড়া বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, হাওর এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পর্যটনশিল্পের বিকাশে বিশেষ উদ্যোগের কথা।
জনসভা শেষে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা হয় আগামীর সময়ের। তারা প্রত্যেকেই বললেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে, পর্যটনের সুবিধার জন্য বিমানবন্দরটি চালু করে দেওয়া, শিক্ষার উন্নয়নে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ছিল জনদাবি। কিন্তু তার কোনোটিই হয়নি।
বড়লেখা থেকে জনসভায় যোগ দিতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিন। তিনি বলছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজার সফরে আমরা আশা করেছিলাম, জেলার বড় বড় সমস্যা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে তিনি কিছু ঘোষণা দেবেন। কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো ঘোষণা শুনতে পেলাম না।’
এক কলেজশিক্ষক বললেন, ‘মৌলভীবাজারে এখনো সরকারি মেডিকেল কলেজ কিংবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এগুলো। এ বিষয়ে কোনো সুখবর পাব বলে আশা করেছিলাম।’
মৌলভীবাজার দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা হওয়ার পরও ‘পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন’ নিয়ে কোনো দিকনির্দেশনা বা বিশেষ ঘোষণা না আসায় কিছুটা হতাশ হয়েছেন— জানালেন উদ্যোক্তা হাসানুজ্জামান।
মৌলভীবাজার শহরের বাসিন্দা রিয়াদ আহমদ মনে করেন, জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বড় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে হাজারো তরুণ উপকৃত হতো। ‘আমরা অন্তত এ বিষয়ে একটি আশ্বাসের প্রত্যাশা করেছিলাম।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কৃষকের ঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ডের কথা তুলে ধরেন। বিষয়টি উল্লেখ করে আবদুল মালেক নামে এক কৃষক বললেন, ‘কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো উদ্যোগের কথা বলেছেন। তবে জেলার কৃষি ও হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে আলাদা কোনো প্রকল্পের ঘোষণা এলে আরও ভালো লাগত।’
প্রধানমন্ত্রী পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করেছিলেন শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাস সুমন। এসব ঘোষণা না আসায় আশাহত হয়েছেন— জানালেন তিনি।
মৌলভীবাজার হাওর রক্ষা আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে জায়গায় যান, সে জায়গার মানুষের সবসময়ই আকাঙ্ক্ষা থাকে আমরা কোনো কিছু পাব। কিন্তু আমরা কোনো ঘোষণা না পাওয়ায় হতভম্ব হয়েছি। তবে আমরা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রী তার গুড নোটবুক থেকে অবহেলিত মৌলভীবাজারবাসীকে বাদ দেবেন না।’
অবশ্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূনের দাবি, সন্ধ্যায় দুসাই রিসোর্টে রাজনৈতিক মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন দাবিদাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজারের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। তাই আমরা আশাবাদী।’




