আগামীর সময়

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি

খাইরুল বেঁচে ফিরলেও ছিনিয়ে নিয়েছে মোবাইল ফোন

খাইরুল বেঁচে ফিরলেও ছিনিয়ে নিয়েছে মোবাইল ফোন

বাসডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরেন খাইরুল।

কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে যেমন মানবিক সহায়তা মেলে অপরদিকে ঘটে অমানবিক কিছু কাণ্ড। সুযোগ সন্ধানীরা ভুক্তভোগীদের থেকে মূল্যবান বস্তু লুটে নেয়। দৌলতদিয়ায় মার্মান্তিক বাসডুবির ঘটনাতেও এমন নজির দেখা গেছে।

বাসটি ডুবে যাওয়ার সময় জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬)। সাঁতরে পাড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তার হাতে থাকা মোবাইলটি ছিনিয়ে নেন। সেটি আর ফেরত দেননি। তবে মোবাইল গেলেও বেঁচে ফিরতে পেরে সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া জানালেন তিনি।

খাইরুল ইসলাম খাঁ উপ‌জেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। তার দা‌বি, বাসটি চালক নি‌জেই চালা‌চ্ছি‌লেন। এই ঘটনায় বাসচালক আরমা‌ন খানের লাশ উদ্ধার হ‌লেও ঘটনার সময় চাল‌কের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় বেঁচে গে‌ছেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের (রাজবাড়ী ব ১১-০০২৪ নম্বর) যাত্রীবাহী বাসটি খোকসা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর দুজন যাত্রী বাসটিতে ওঠেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানান। বেলা ২টা ৪২মিনিটে বাসটি আবার যাত্রা শুরু করে।

খাইরুল জানালেন, তার সিট নম্বর ছিল বি-২। তার পাশের সিটের যাত্রী সাদা টি-শার্ট পরা যুবক খোকসা স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে বসেছিলেন। তাদের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। এ সময় তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগে। তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে গিয়ে নদীর পানিতে পড়েন। তার দেখা হাতে গোনা কয়েকজন বাসযাত্রী নদী সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে উঠে জীবন বাঁচিয়েছেন। এ সময় নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তার হাতের মোবাইলটি ছিনিয়ে নেন।

দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকের সঙ্গে আর দেখা হয়নি বলে জানালেন খাইরুল।

খাইরুল একটি টেক্সটাইল মিলের ম্যাশিন ম্যান হিসেবে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। এদিন তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।

    শেয়ার করুন: