চাঁপাইনবাবগঞ্জ
আসছে আমের মৌসুম, শিলাবৃষ্টি সত্ত্বেও ভালো ফলনের আশা চাষীদের

ছবি: আগামীর সময়
আর কিছুদিন পরই শুরু হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম মৌসুম। এবার জেলায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার আম কেনাবেচা হবে বলে আশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। দেশজুড়ে সুস্বাদু ও উন্নতমানের আমের জন্য পরিচিত এই জেলার বাগানগুলোতে এখন চলছে পরিচর্যা, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি।
জেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, আম সংগ্রহের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিক ও বাগান মালিকরা। সাধারণত স্থানীয় গুটি আম দিয়ে শুরু হয় মৌসুম। এরপর পর্যায়ক্রমে বাজারে আসে গোপালভোগ, খিরসাপাত, রানিপছন্দ, ল্যাংড়া ও ফজলিসহ বিভিন্ন জাতের আম।
জিআই সনদপ্রাপ্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমের সুনাম দেশজুড়ে। অনেকেই এই আমকে চেনেন ‘হিমসাগর’ নামেও। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ অপেক্ষায় থাকেন এই জেলার আমের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে ওঠতে শুরু করবে নতুন মৌসুমের আম।
আম উদ্যোক্তা আব্দুল আওয়াল বলছিলেন, গাছে ভালো মুকুল এসেছিল এ বছর। তবে মাঝেমধ্যে কিছু গুটি ঝরে গেছে বৈরী আবহাওয়ার কারণে। তারপরও গাছে থাকা আম পরিপক্ক হলেই শুরু করা হবে বাজারজাত।
বাগান মালিক এনামুল হক স্বপন বললেন, এ বছর মুকুল এসেছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ গাছে। তবে গত ৭ ও ১৯ মার্চের শিলাবৃষ্টি, ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে হয়েছে কিছু ক্ষতি। তারপরও যে পরিমাণ আম রয়েছে, তা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। এখন ভালো দামের অপেক্ষায় আছেন চাষিরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা জানান, এ জেলায় পরিপক্ক আম সংগ্রহের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রকৃতির নিয়মে আম পাকলেই তা করা হয় সংগ্রহ। এ কারণে এখানে অনুসরণ করা হয় না নির্দিষ্ট কোনো ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’।
সোমবার বিকেলে কথা রয়েছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমচাষী, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার। সেখানে আম সংগ্রহ, বাজারজাতকরণ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হবে আলোচনা।
আমচাষী ফরহাদ আলী জানালেন, গাছে আম পাকার লক্ষণ দেখা দিলেই তা সংগ্রহ করে পাঠানো হবে বাজারে। আচারের জন্য স্থানীয় গুটি আম কাঁচা অবস্থায় সংগ্রহ করা হলেও গোপালভোগ বা খিরসাপাতের মতো উন্নত জাতের আম কখনোই পাড়া হয় না কাঁচা অবস্থায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এখন ফেসবুকভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তাদের হাতে। তারা জেলার বিভিন্ন বাগান ও বাজার থেকে আম সংগ্রহ করে দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে দেন কুরিয়ারের মাধ্যমে। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন সংকটের কারণে কুরিয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনের নজরদারির প্রতি দাবি জানিয়েছেন এইসব তরুণ উদ্যোক্তারা।
নিরাপদ ও পরিপক্ক আম সংগ্রহে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন ফল বিজ্ঞানীরাও।
আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিনের মতে, পরিপক্ক আম চেনার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে বাগান মালিকদের করা হচ্ছে সচেতন। তার ভাষ্য, বালাইনাশক ব্যবহারের পর অন্তত দুই সপ্তাহ বিরতি দিয়ে সংগ্রহ করতে হবে আম। এতে ভোক্তারাও পাবেন নিরাপদ আম।




