শেরপুর
ফেসবুকে শিক্ষকদের বিকৃত ছবি ছড়িয়ে মানহানির অভিযোগ, থানায় জিডি

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার শেরপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকার ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে বিকৃত ফটোকার্ড ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু সাঈদ শেখ।
তিনি জানিয়েছেন, গত ৮ ও ১০ অক্টোবর দুটি ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষিকার ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর ফটোকার্ড তৈরি ও প্রচার করা হয়। ফটোকার্ডে ‘৫০ বছরের শিক্ষক পালিয়ে গেলেন ৪০ বছরের শিক্ষিকাকে নিয়ে’ লেখা ছিল। এ ধরনের প্রচারে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। ফেসবুকে প্রচারিত ছবিগুলো বিভিন্ন মানুষের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা ছবি প্রকাশের আগে তার সত্যতা, প্রাসঙ্গিকতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি। যাচাই-বাছাই ছাড়া ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা অনুচিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত মর্যাদারও ক্ষতি করতে পারে।
প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর শেরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা তার উদ্দেশ্য নয়; বরং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, নিজের ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার সামাজিক মর্যাদা রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রীরাও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানায়।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু ঘটনাটিকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি থানা-পুলিশকে জানিয়েছেন।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদিন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় জিডি নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




