মাহদীকে কিল-ঘুষি ও লাথি, তদন্তে পুলিশ

সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তিনি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মাহদী হাসান ফেসবুক লাইভে ছিলেন। পরে লাইভ সম্প্রচার চালু রেখেই তিনি হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র বলছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশের একটি ভবন থেকে নেমে চত্বরে আসার পর কয়েকজন তরুণ মাহদীকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে কিল-ঘুষি, লাথি ও চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় তার পরিহিত প্যান্টের হাঁটুর নিচের অংশ ছিঁড়ে যায়। শরীরেও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
হাসপাতালে যাওয়ার পথে ফেসবুক লাইভে মাহদীর সঙ্গে থাকা একজন জানান, আগের দিনের হামলার ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের আবেদন জানাতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পরপরই তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এর আগে বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে মাহদী অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের কারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া দিচ্ছেন এবং হামলার চেষ্টা করছেন। পরে তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় আশ্রয় নেন।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি মন্তব্য পোস্ট করেন মাহদী। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
তবে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত চলছে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান বলেছেন, ‘কয়েকজন ব্যক্তি মাহদীকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরেছে। তবে হামলাকারীদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠনের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে পরিচিতি পান মাহদী হাসান। পরবর্তীতে বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকায় তিনি আলোচনায় আসেন।






