উদ্বোধনের ৯ বছর পরও ভবনহীন টোক নয়নবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র টোক নয়নবাজারে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যে ৯ বছর আগে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্বোধন করা হয়েছিল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। তবে দীর্ঘ এই সময়েও নির্মিত হয়নি কেন্দ্রটির স্থায়ী ভবন। ফলে অবকাঠামোগত সংকট ও পূর্ণাঙ্গ জনবলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত পুলিশি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শীতলক্ষ্যা নদীবেষ্টিত এবং গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ—এই তিন জেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগত কারণে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে, ২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করা এই তদন্ত কেন্দ্রে একজন পরিদর্শক ও চারজন উপপরিদর্শকসহ (এসআই) মোট ৪০ জন জনবল থাকার কথা ছিল। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ, অভিযোগ সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রেখে সাজানো হয়েছিল এই কেন্দ্রের রূপরেখা। তবে বাস্তবে সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। বর্তমানে তদন্ত কেন্দ্রটিতে ৩ জন এসআইসহ মাত্র ২৪ পুলিশ কর্মরত আছেন। স্থায়ী ভবন ও পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাবে সীমিত পরিসরে এর কার্যক্রম চলছে। আর মূল মামলা রুজু করার জন্য মানুষকে এখনো কাপাসিয়া থানাতেই যেতে হচ্ছে।
এদিকে কোরবানির পশুর হাট, নদীপথের বাণিজ্য, বিশাল সবজি বাজার এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার প্রসারের কারণে টোক নয়নবাজার এলাকায় দিন দিন জনসমাগম ও যানবাহন চলাচল বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেছেন, ‘এই বাজার এখন কাপাসিয়ার অন্যতম বড় ব্যবসাকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। তদন্ত কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা অনেকটাই কমে যাবে।’
একই সুর শোনা গেল স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলামের কণ্ঠেও। তার ভাষ্য, ‘আগে কোনো ঘটনা ঘটলে কাপাসিয়া থানায় যেতে দীর্ঘ সময় লাগত। তদন্ত কেন্দ্র হওয়ায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। কিন্তু ভবন ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এখনো পূর্ণ সুবিধা মিলছে না।’
তিন জেলার মোহনা হওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ করে দ্রুত সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন বাজারের এক পরিবহন শ্রমিক নেতা। তিনি দাবি করেন, এখানে শক্তিশালী পুলিশি নজরদারি থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে। স্থানীয়দের মতে, স্থায়ী ভবন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে মাদক কারবার, নদীপথে চুরি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং রাতের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে টোক নয়নবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক মাইন উদ্দিন জানান, বর্তমানে সীমিত পরিসরে পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থায়ী ভবন নির্মাণ হলে জনগণকে আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
কাপাসিয়া থানার সদ্য যোগদান করা ওসি নাছির আহমেদ জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি। তবে টোক নয়নবাজার তদন্ত কেন্দ্র ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করে জানান, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।


