দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার ঘটনায় মামলা

লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। সংগৃহীত ছবি
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ৭/৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
চায়ের দোকানি রবিন রাংসা বলেছেন, ‘আমি চায়ের কাপ ধুচ্ছিলাম। আলিফ ফকির ফোন নিতে ফিরে এলে দুজন যুবক এসে সিগারেট চায় এবং পরপর পাঁচটি গুলি করে। ভয়ে আমি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ি। ঘাতকদের একজন লুঙ্গি ও অন্যজন থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরা ছিল।’
নিহত আলিফ বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজে স্থানীয় বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ ও ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি।
আলিফ কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ডিটপুর গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুর্গাপুরের তেলনজিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।
ঘটনার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় স্ত্রীকে আলিফ বলেছিলেন, ‘বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও। আমার আসতে একটু দেরি হবে, একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’ দেড় বছরের শিশুপুত্রকে স্ত্রীর কোলে দিয়ে বের হওয়া আলিফের সেই কথাই যে জীবনের শেষ কথা হয়ে থাকবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার বিকালে ডিটপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিক আলিফের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সন্ধ্যায় নিহতের মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। তারা বিচারহীনতা নিয়ে আতংকে রয়েছেন।
মামলার বাদী আনন্দিতা জানান, ‘আমার স্বামীর অপরাধ অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতেন না। তিনি সন্তানদের ভীষণ আদর করতেন। আমার ছোট দুই শিশুকে যারা বাবাহারা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এ হত্যার বিচার না হলে দেশের কোনো মানুষ নিরাপদ থাকবে না।’
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাখের আহমেদ জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে এসআরবি, পিবিআই, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কাজ করছে।




