নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
অনিয়মই ব্রত শিক্ষক দেবব্রতর
- হয়েছিলেন বরখাস্ত, তবু বহাল প্রধান শিক্ষক
- অডিটে ধরা পড়েছে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ-বাণিজ্য

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার অন্যতম নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রায় ছয় দশকের পুরনো এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্যের চেয়ে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিকের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগকে ঘিরে।
অভিযোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের সময় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিকে ঘুষ দিয়ে পদটি লাভ করেন দেবব্রত বণিক। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৫ সালে স্কুল ও কলেজ শাখায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে প্রায় ৩১ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট প্রতিবেদনে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৪টি অনিয়ম ও লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের পুরনো তিনতলা ভবন নির্মাণের জন্য এক দাতা সদস্যের দেওয়া প্রায় ১৭ লাখ টাকা বিদ্যালয়ের মূল ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের এপ্রিলে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি দেবব্রত বণিককে দুই বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে তিনি পুনর্বহাল হন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিক। তার ভাষ্য, বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম নিয়মনীতি অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়েছে এবং অতীতে যে অভিযোগগুলো উঠেছিল, সেগুলো ছিল তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
অবশ্য অভিযোগগুলো তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবু তৌহিদ। একই আশ্বাস দিয়েছেন বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন লিটন। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় নজরে এসেছে তার। সবকিছু যাচাই করে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার কথা বলেছেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া। বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষককে সতর্কও করা হয়েছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।




