কক্সবাজার
‘৮০০ টাকার জন্য’ বন্ধুর প্রাণ কেড়ে নিল বন্ধু

মো. হামিদ। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ৮০০ টাকার জন্য বন্ধুর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে মো. হামিদ (১৭) নামে এক কিশোর। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হামিদ ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। কাজ করত স্থানীয় একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে। অভিযুক্ত মো. শামীম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে। তিনি পেশায় টমটমচালক। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা ও বোনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, হামিদ ও শামীম প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু। কিছুদিন আগে শামীম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন হামিদের কাছে মেরামত করায়। এ কাজে ৮০০ টাকা পাওনা থাকলেও শামীম তা পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করছিল।
মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে দেখা হলে হামিদ পাওনা টাকা চায়। এ সময় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শামীমের মা ফাতেমা বেগম ও বোন রুমেনা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে হামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. আলমের ভাষ্য, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শামীম আচমকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে হামিদের পেটের পাশে আঘাত করে। এতে হামিদ গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেছেন, ‘এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এলাকায় আগে ঘটেনি। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’
তিনি জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন শামীমকে আটকে রাখে। একই সঙ্গে তার মা-বোনকেও অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে আমার উপস্থিতিতে তাদের ঈদগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঈদগাঁও থানার ওসি এ টি এম সিফাতুল মাজদার বলছেন, ‘প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার মা-বোনকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি।’
নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।




