বরিশালে আট নদীর ৬০ কিলোমিটারে ভাঙন
- ১০ দিনে বিলীন ৮২ বসতঘর ও ৩৯ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

সংগৃহীত ছবি
বরিশালের নদ-নদীতে অব্যাহত ভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে জনপদ। কোথাও বসতঘর, কোথাও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও ফসলি জমি ভাঙছে নদীতে। সদর উপজেলা, মেহেন্দিগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া, মুলাদী, হিজলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র আকার ধারণ করেছে ভাঙন। মেঘনা, কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী মেহেন্দিগঞ্জের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ১০ দিনের ব্যবধানে উপজেলার চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নে ৮২টি বসতঘর এবং একটি বাজারের প্রায় ৩৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য বলছে, জেলায় ৩৮টি নদ-নদীর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭১৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ, সন্ধ্যা, সুগন্ধাসহ আটটি নদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটার অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০-২৫ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি।
মেহেন্দিগঞ্জের গোবিন্দপুর, চরমিঠুয়া, দড়িরচর খাজুরিয়া, আদর্শনগর, আন্ধারমানিক, জাঙ্গালিয়া, দক্ষিণ উলানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত রয়েছে ভাঙন। অন্যদিকে বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে সড়ক, বেড়িবাঁধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনেও বিপর্যস্ত জনজীবন। উপজেলার ইলুহারের বাসিন্দা জয় হাজরার ভাষ্য, নদীভাঙনে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি বিলীন হয়ে গেছে। গত পাঁচ বছরে পাঁচবার বসতবাড়ি সরাতে হয়েছে। বর্তমানে যেখানে বসবাস করছেন, সেটিও আর বেশি দিন টিকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, চরমোনাই ও শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়ও ভাঙন চলছে। গত দেড় দশকে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের কয়েকশ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার কথা জানিয়েছে পাউবো। তবে চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। বরিশাল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবালের ভাষ্য, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটার অংশে ভাঙন চলছে। এর মধ্যে ২০-২৫ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি। এসব স্থানে জরুরি আপৎকালীন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জিও ডাম্পিং করা হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ভাঙন প্রতিরোধে আরও কাজ করা সম্ভব হবে।



