১৬ মণের ‘রাজা বাহাদুরের’ দাম হাঁকা হলো ৫ লাখ টাকা

ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুমিরমারা গ্রামের খামারি কামাল গাজী তিন বছর ধরে যত্নে পেলে বড় করেছেন প্রিয় ষাঁড়কে। নাম রেখেছেন ‘রাজা বাহাদুর’। শাহীওয়াল প্রজাতির এই ষাঁড়ের ওজন এখন প্রায় ১৬ মণ। কোরবানির ঈদে এবার রাজা বাহাদুরকে হাটে তুলবেন কামাল। দাম হেঁকেছেন ৫ লাখ টাকা।
প্রায় সাত ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিনই কামালের বাড়িতে ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ। স্থানীয়দের মতে, দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি এর ক্ষিপ্রতাও নজরে পড়ার মতো।
স্থানীয় আবু হানিফ জানালেন, এত বড় গরু তিনি আগে দেখেননি। ভালো দামেই বিক্রি হবে ‘রাজা বাহাদুর’, ধারণা তার।
খামারি কামাল জানালেন, রাজা বাহাদুরকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন নিয়ম করে গম, ভুট্টা, ভুসি ও সবুজ ঘাস দেওয়া হয়।
এর দেখভালে সবসময় নিয়োজিত দুইজন কর্মী। তাদের একজন গাজী মোস্তাফিজ বললেন, ‘খুব যত্নে রাজা বাহাদুরকে লালন-পালন করা হচ্ছে। সবসময় ফ্যানের বাতাসে রাখা হয় তাকে। দীর্ঘদিন পরিচর্যা করতে করতে গরুটির প্রতি এক ধরনের মায়া তৈরি হয়েছে। বিক্রি হয়ে যাবে ভাবতেই কষ্ট লাগে।’
খামারি কামাল গাজী জানালেন, নিজের সন্তানের মতো করে তিনি রাজা বাহাদুরকে লালন করেছেন। তার গোয়ালেই শাহীওয়াল জাতের গাভী থেকে জন্ম নেয় ষাঁড়টি। ছোট থেকেই অন্য গরুর তুলনায় আলাদা স্বভাবের ছিল। মাঠে ছেড়ে দিলে অন্য গরু, ছাগল কিংবা মহিষকে কাছে ভিড়তে দিত না, সবাইকে তাড়িয়ে একাই মাঠ দখল করে রাখত। এ কারণে এলাকাবাসীর কাছে রাজা বাহাদুর নামেই পরিচিত হয়ে ওঠে।
তিনি বলেছেন, ‘এবার কোরবানির হাটে গরুটিকে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে দাম চেয়েছি ৫ লাখ টাকা, এরই মধ্যে ৪ লাখ টাকা দাম উঠেছে। তবে প্রাকৃতিক খাবারে অভ্যস্ত হওয়ায় বিক্রি না হলেও কোনো সমস্যা নেই। নিজ গোয়ালেই আবার আগের মতো যত্নে লালন করব পরবর্তীতে বিক্রি করার জন্য।’
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ জানালেন, এ বছর কলাপাড়া উপজেলায় কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত হওয়া পশুগুলোর মধ্যে ‘রাজা বাহাদুর’ অন্যতম আকর্ষণ। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করায় এটি অন্য খামারিদের জন্যও একটি উদাহরণ।





