পটুয়াখালী
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চলছে ইলিশ শিকার, নারীরাও অংশ নিচ্ছেন

পুরুষ জেলেদের পাশাপাশি নারীরাও একাধিক ট্রলার নিয়ে নদীতে মাছ ধরছেন। ছবি: আগামীর সময়
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর দশমিনা অংশে তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে মা ইলিশ শিকার। পুরুষ জেলেদের পাশাপাশি নারীরাও একাধিক ট্রলার নিয়ে নদীতে মাছ ধরছেন। প্রশাসনের অভিযান চললেও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জাল ফেলে চলছে ইলিশ শিকার।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকার বন্ধ হয়নি।
বাঁশবাড়িয়া, ঢনঢনিয়া, গোলখালী, কাটাখালী, আউলিয়াপুর, রণগোপালদী, পাতারচর ও চরবোরহান এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে নদীতে বিচরণ করছেন জেলেরা। ধরা পড়া মাছ নদীর তীরে এনে বিক্রিও করছেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকার তেঁতুলিয়া নদীতে সরেজমিন গিয়ে মাছ শিকারের চিত্র দেখা গেছে। এ সময় নদীর কয়েকটি স্থানে ট্রলার নিয়ে জেলেদের জাল ফেলতে দেখা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন জেলের অভিযোগ, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে কিছু জেলেকে নদীতে জাল ফেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছেন, তারা দিন-রাতে নির্বিঘ্নে মাছ ধরছেন বলে তারা শুনেছেন। অন্যদিকে, সাধারণ জেলেরা অভিযানের মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একাধিক জেলে বলেছেন, তারা দরিদ্র। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। মাছ ধরতে না পারলে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় তাদের।
তাদের ভাষ্য, ‘আমরা আইনের বিরোধিতা করি না, তবে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।’
অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
দশমিনা উপজেলা মৎস্য বিভাগের উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তেঁতুলিয়া নদীর উত্তর প্রান্ত থেকে কয়েকটি নারী জেলের দল একাধিক ট্রলার নিয়ে তার কর্ম এলাকায় মা ইলিশ শিকার করতে আসে। এসব জেলে মূলত বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বগি বাজার এলাকার বাসিন্দা।
আমিরুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, অভিযানের সময় ওই জেলেদের আটক করতে গেলে তারা ছোট ছোট শিশুদের নদীতে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাধা সৃষ্টি করেন। জেলেদের স্বাধীনভাবে নদীতে মাছ ধরতে বাধা দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানিয়েছেন, তিনি নিজেই তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌপুলিশ, থানা-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে কঠোরভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এরই মধ্যে একাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে। জাল ও ট্রলারও জব্দ করা হয়েছে।



