দেশে ফেরার বদলে এলো ভাইয়ের মৃত্যুর খবর

কলকাতায় হোটেলে আগুন— সংগৃহীত
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে আহম্মেদ বাবু (৩৭) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি ঢাকার সাভার এলাকার কসমেটিক ব্যবসায়ী। আজ বুধবার দুপুরে আহম্মেদ বাবুর এক মামা তার পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর দেন।
বাবুর মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম।
নিহত বাবু সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি এলাকার সিকদারপাড়ার আদম আলীর ছেলে। আমিনবাজার বাসস্ট্যান্ডের পাশে শাহীন সুপার মার্কেটে ‘কিউট কসমেটিক’ নামে একটি দোকান ছিল তার।
বাবুর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বলেছেন, ‘বাবুর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আজ দুপুরে কলকাতা থেকে খবর এলো, বাবু আর বেঁচে নেই।’
তিনি জানান, সোমবার রাত ১০টার দিকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন বাবু। মঙ্গলবার সকালে তিনি কলকাতায় পৌঁছান। সেখান থেকে দোকানের জন্য কসমেটিকস কিনে বুধবার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার দুপুর ২টার দিকে খবর আসে, কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তিনি মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বাবু চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। আমিনবাজার বাসস্ট্যান্ডের পাশে শাহীন সুপার মার্কেটে কসমেটিক ও প্রসাধনীর ব্যবসা করত। তার স্ত্রী ও এক মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছে। মেয়ে রোজার বয়স মাত্র ১২ বছর আর ছেলে সোয়াতের ৬ বছর। নাবালক বয়সে সন্তানরা বাবা হারা হয়ে গেল।’
প্রতিবেশী হাজী নাজিম উদ্দিন বললেন, ‘সকালেও কোনো খবর পাইনি। হঠাৎ দুপুরে শুনি বাবু মারা গেছে। বাবুর আমিনবাজারে কসমেটিকের ব্যবসা ছিল। ভালোই চলছিল তার ব্যবসা। প্রায় কসমেটিক আনতে কলকাতায় যেত। সেদেশ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিক দেশে এনে বিক্রি করত।’
বাবুর দোকানের কর্মচারী লাভলু জানান, তাদের দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিক বিক্রি করা হয়। তার ভাষ্য, ‘আমার মহাজন প্রায়ই কসমেটিক আনতে একাই কলকাতায় যায়। দু-এক দিন থাকে, আবার দোকানের মালামাল নিয়ে দেশে চলে আসেন। কিন্তু দুপুরে তার মৃত্যুর খবর আসল।’
ইউএনও বললেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আমিনবাজার এলাকার এক ব্যক্তি কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রবাসী কল্যাণ থেকে লাশ ফেরত আনার বিষয়টি দেখবে।’








