তীব্র গরমে শ্রীমঙ্গলে বাড়ছে আখের রসের চাহিদা

ছবি: আগামীর সময়
দেশের চায়ের রাজধানী ও পর্যটননগরী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে বিপর্যস্ত। প্রচণ্ড রোদ ও ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি খুঁজতে অনেকেই ভিড় করছেন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে বিক্রি হওয়া আখের রসের দোকানে। গরম যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে এই মৌসুমি পানীয়ের চাহিদা।
শহরের স্টেশন রোড, চৌমোহনা, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আখ পেষার মেশিন বসিয়ে রস বিক্রি করতে দেখা যায়। তৃষ্ণার্ত পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ ও বাজারে আসা ক্রেতাদের অনেকেই গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে পান করছেন আখের রস।
উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের শহরশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রহমত মিয়া বলছিলেন, বিয়ের বাজার করতে কয়েকজনের সঙ্গে শহরে এসেছিলাম। প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণায় খুব কষ্ট হচ্ছিল। পরে স্টেশন রোডের যমুনা পেট্রোল পাম্প এলাকায় আখের রস পান করে অনেক স্বস্তি পেয়েছি। এক গ্লাস ১০ টাকা করে দুই গ্লাস খেয়েছি। এখন শরীর অনেকটা চাঙা লাগছে। গরমের সময় সুযোগ পেলেই আখের রস পান করি।
রাজঘাট ইউনিয়নের রাজঘাট চা-বাগানের বাসিন্দা খোকন তাঁতি বললেন, গরমের সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে ভ্যানে আখের রস পাওয়া যায়। ছোট গ্লাস ১০ টাকা ও বড় গ্লাস ২০ টাকা। যখনই চোখে পড়ে, এক-দুই গ্লাস খাই। অনেক সময় বোতলে করে বাড়িতেও নিয়ে যাই।
আখের রস বিক্রেতাদের ভাষ্য, এটি মৌসুমি ব্যবসা হলেও গরমের সময় এর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লুকড়া ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামের মো. এমরুল মিয়া বলছিলেন, কয়েক বছর ধরে গরমের মৌসুমে শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় আখের রস বিক্রি করি। শীতকালে বাড়িতে শাকসবজি চাষ করি। গরমের সময় এই ব্যবসার আয় দিয়েই সংসার চলে। বেশি গরম হলে দিনে ১৫০ থেকে ২০০ গ্লাস পর্যন্ত রস বিক্রি হয়। এতে দুই থেকে তিন হাজার টাকার মতো আয় হয়। তবে আখের দাম, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ খুব বেশি থাকে না।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে আসা আরেক বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলছিলেন, গরমের সময় শ্রীমঙ্গলে এসে দুই-তিন মাস আখের রস বিক্রি করি। বাজার থেকে আখ কিনে পরিষ্কার করে মেশিনে রস বের করে বরফ মিশিয়ে বিক্রি করি। ছোট গ্লাস ১০ টাকা ও বড় গ্লাস ২০ টাকা। বর্তমানে আখের দাম বেশি হওয়ায় লাভ কমে গেছে। বর্ষাকাল শুরু হলে এলাকায় গিয়ে নৌকা চালাব।
পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট চিকিৎসক ডা. নাজেম আল কোরেশী রাফাত উল্লেক করেন, গরমের ক্লান্তি দূর করতে আখের রস বেশ উপকারী। এতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। এটি শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে সহায়তা করে এবং লিভারের জন্যও উপকারী। জন্ডিস রোগীদের ক্ষেত্রেও আখের রস উপকারী হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীদের পরিমিত পরিমাণে আখের রস পান করা উচিত।




