হাতিয়ায় বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ

উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার ও কৃষি অফিসের নানা কারসাজিতে নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচের কথা বলে প্রতি কেজি ইউরিয়া ৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ২৪ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাসায়নিক সারের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ৩ টাকা কমিশন রাখার বিধান রয়েছে। তবে হাতিয়ায় ইউরিয়ার পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সারও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষক ও সার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক ডিলারের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও সারসংকট, আবার কোথাও সরবরাহ কম থাকার কথা বলে কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে বাড়তি দাম দিতে রাজি হলে সার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জাহাজমারা ইউনিয়নের সেন্টার বাজারসংলগ্ন এলাকায় জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করছিলেন কৃষক বাহার ও জসিম। সারের দাম জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘প্রতি কেজি ৩৫ টাকা করে সেন্টার বাজার থেকে কিনেছি।’
বাজারটির দুই বিক্রেতার কাছে বাড়তি দাম নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা পরিবহন ও অন্যান্য খরচের কথা উল্লেখ করেন। একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে জাহাজমারা বাজার, সিডিএসপি বাজার ও সাগুরিয়া এলাকার কৃষকদের কাছ থেকেও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাহাজমারা ও সাগুরিয়া এলাকার কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা জানান, এসব এলাকায় আবাদি জমি বেশি হওয়ায় বিসিআইসি ডিলারদের বরাদ্দ করা সার চাহিদার তুলনায় কম। ফলে চরকিং, নলচিরাসহ অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে সার সংগ্রহ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিসের অনুমতি নিতে হয়।
তাদের দাবি, অফিস খরচের নামে দুই থেকে চার হাজার টাকা দিতে হয়।
খুচরা বিক্রেতাদের আরও অভিযোগ, কোনো কোনো ৫০ কেজির বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত সার কম থাকে। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে বিসিআইসি ডিলাররা প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৪২০ টাকায় বিক্রি করছেন। পরিবহন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে বেশি দাম না নিলে লোকসান গুনতে হয় বলে দাবি তাদের।
বাড়তি দামে সার বিক্রির বিষয়ে বুড়িরচর ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নুরনবী শাহীন বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিস যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, সেভাবেই সার সরবরাহ করা হচ্ছে।’
সারের বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত সবুজ বলেন, ‘হাতিয়া একটি দুর্গম এলাকা। বস্তাপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা না নিলে ডিলাররা ব্যবসা করবে না।’ তবে অন্য এলাকা থেকে খুচরা বিক্রেতাদের সার সংগ্রহের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
উল্লেখ্য, হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২ জন বিসিআইসি ডিলার এবং ৯৯টি লাইসেন্সধারী সাব-ডিলার রয়েছেন। এ ছাড়া ইউরিয়া সার বিক্রির সাময়িক অনুমতিপ্রাপ্ত বিক্রেতা রয়েছেন প্রায় ৪০ জন।



