আগামীর সময়

নির্বাচনের ফল পুনর্গণনার দাবিতে রংপুরে সড়ক অবরোধ, উপজেলা ঘেরাও

নির্বাচনের ফল পুনর্গণনার দাবিতে রংপুরে সড়ক অবরোধ, উপজেলা ঘেরাও

ফাইল ছবি

নির্বাচনে ভোট পুনঃগণনার দাবীতে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ, দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার কর্মী-সমর্থকরা।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে হারাগাছে দোকানপাট বন্ধ রেখে এলাকাবাসী রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে বিজয়ী এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

এতে হারাগাছের শিশু-কিশোর, যুবকসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন। নারীরা ঝাড়ু মিছিল করে ভোট পুনঃগণনার দাবী জানান। বেলা ১২টায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে কাউনিয়া উপজেলার সহস্রাধিক বিএনপি নেতাকর্মীসহ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। ‘আখতার ভোট চোর, ভোট চুরি মানবো না-মানি না’ ইত্যাদি শ্লোগান দিতে থাকেন। সড়ক অবরোধের কারণে রাস্তার দু’ধারে কয়েক কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেল ৩টায় কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোট পুনঃগণনার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। এতে সড়ক অবরোধ তুলে দেন আন্দোলনকারীরা।

বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা বলেন, জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পরিবর্তন করে দিয়েছে। জনগণের দাবী হলো ভোট পুনঃগণনা করা হোক। পুনঃগণনায় যা ফলাফল আসবে ভোটাররা তা মেনে নেবে।

তিনি বলেন, আমার কর্মী-সমর্থকরা আন্দোলন করলে আইনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ ডিসি সাহেব যখন নির্বাচনী দায়িত্বে থেকে ফলাফল পরিবর্তন করলো তখন তারা কোন আইন-কানুন মানে নাই। আমার সন্দেহ হচ্ছে ডিসি সাহেব ভোট পুনঃগণনা করতে কালক্ষেপণ করে পুনরায় ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করবে।

নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, হারাগাছে এখন ভরসার ভাড়া করা লোকেরা যা করছে তা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রশাসনের কর্তারা আলোচনার মাধ্যমে আইনগতভাবে এই সমস্যার সমাধান করুন। সময় ক্ষেপন করার সুযোগ নাই। যেসব মানুষদের ভাড়া করে আনা হয়েছে তারা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ভরসার নেতাকর্মী তাদেরকে লোভ দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে বিভ্রান্ত করছে। এই আইন লঙ্ঘনের পরিস্থিতির দায়ভার বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে।

এদিকে একই দাবীতে সকালে পীরগাছা বাজারে এলাকায় উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর ভোট পুনঃগণনার আবেদন করেন তিনি। অপরদিকে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবীতে শুক্রবার রাতে বিক্ষোভ করে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাইফুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের যোগসাজশে ধানের শীষের অনেক ব্যালট বাতিল করা হয়েছে। অবিলম্বে ভোট পুনঃগণনা করা হলে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, ভোট পুনঃগণনার আবেদন দিতে শুক্রবার সকাল ১১টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের বাংলোস্থ অফিসে যান বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। তিনি একাধিকবার জেলা প্রশাসককে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা ও অফিসের কর্মচারী মারফত সংবাদ পাঠালেও জেলা প্রশাসক দেখা করতে আসেননি।

বিকেল ৩টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোঃ শাহান বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার আবেদনটি গ্রহণ করেন। প্রার্থীকে বসিয়ে রেখে জেলা প্রশাসকের দেখা না করার খবরটি হারাগাছে পৌঁছালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন হারাগাছবাসী। বিকেল থেকে তারা দোকানপাট বন্ধ রেখে ভোট পুনঃগণনার দাবীতে বিক্ষোভ করতে থাকে। রাত ১২টা পর্যন্ত হারাগাছ বাজার, সাহেবগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এমদাদুল হক ভরসার কর্মী-সমর্থকরা। রাতে হারাগাছে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জানান, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তাকে পরাজিত করা হয়েছে। অপরদিকে রাতে নগরীর জুলাই চত্ত্বরে বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে জানান, বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা এনসিপি’র নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর করেছে। যার দায়ভার দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিতে হবে।

    শেয়ার করুন: