দাউদকান্দি
চার চারা থেকে প্যাশন ফলের বাগান

দাউদকান্দিতে আবুল হাসান ফারুকের প্যাশন ফলের বাগান। ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে শখের বশে লাগানো চারটি প্যাশন ফলের চারা থেকে ছোট্ট একটি বাগান গড়ে তুলেছেন দাঁতের চিকিৎসক আবুল হাসান ফারুক। বাগান থেকে দুই দফায় ফলও পেয়েছেন তিনি। প্রতি কেজি ফল বিক্রি করছেন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। অল্প জায়গায় বিদেশি এ ফলের চাষ করে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় ভবিষ্যতে বাগান বড় করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
দাউদকান্দি উপজেলার ইছাপুরা গ্রামের বাসিন্দা ফারুক। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি গাছপালার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকেই ২০২৪ সালের শেষ দিকে চারটি প্যাশন ফলের চারা সংগ্রহ করে বাড়িতে রোপণ করেন। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে। পরে লতা ছড়িয়ে পড়ে মাচাজুড়ে, তৈরি হয় ছোট্ট একটি বাগান।
ফারুক জানান, প্রথমে শখের বশে গাছগুলো লাগিয়েছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে ফুল ও ফল আসতে শুরু করলে এ ফলের চাষের প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এখন বাগান থেকে ফল সংগ্রহের পাশাপাশি নতুন চারা তৈরিরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বললেন, ‘প্রথমে চারটি চারা দিয়ে শুরু করেছিলাম। গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠার পর সেখান থেকেই আরও অনেক গাছ হয়েছে। এখন ছোট একটি বাগান তৈরি হয়েছে। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা করতে ভালো লাগে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি ফল বিক্রি করেও আয় করা যাচ্ছে।’
ফারুকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তার বাগানে দুই দফা ফলন হয়েছে। প্রতিবার আট থেকে ১০ কেজি ফল সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি প্যাশন ফল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ফলে ছোট পরিসরের বাগান থেকেও ভালো দামে ফল বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্যাশন ফল দক্ষিণ আমেরিকার জনপ্রিয় একটি ফল। বাংলাদেশে এটি ট্যাং ফল, আনারকলি বা শরবতি ফল নামেও পরিচিত। ফলটি গোলাকার। কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকলেও জাতভেদে পেকে গেলে হলুদ বা বেগুনি রং ধারণ করে। ফলের ভেতরে রসালো শাঁস ও অসংখ্য বীজ থাকে। এর স্বাদ টক-মিষ্টি এবং সুগন্ধও বেশ স্বতন্ত্র। সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি শরবত, জুসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরিতে ফলটি ব্যবহার করা যায়।
প্যাশন ফলের গাছ লতানো ও বহুবর্ষজীবী। মাচা, জাল বা অন্য অবলম্বন পেলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফারুক জানান, গাছ লাগানোর পর প্রথম দিকে নিয়মিত পানি দেওয়া ও পরিচর্যা করতে হয়েছে। পরে লতা মাচায় উঠে যায়। এ ফল চাষে খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গাছে ফুল ও ফল পাওয়া যায়। একটি পরিণত গাছ থেকে বছরে ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শুরুতে প্যাশন ফল তাদের কাছে অপরিচিত ছিল। মাচায় ঝুলে থাকা গোলাকার ফল দেখে অনেকেই কৌতূহলী হয়ে বাগানে আসছেন। কেউ ফলের স্বাদ নিচ্ছেন, আবার কেউ নিজের বাড়িতে এ ফল চাষের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফারুকের বাড়িতে বিদেশি এ ফলের বাগান দেখতে প্রতিদিনই লোকজন ভিড় করছেন।
ফারুকের বাগানে এখনও বড় পরিসরে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়নি। তবে অল্প জায়গায় চাষ, গাছের দ্রুত বিস্তার ও বাজারে তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়ার সম্ভাবনা তাকে আশাবাদী করে তুলেছে।
ফারুক বলেন, ‘এখনও এ ফলের চাষ বড় ব্যবসা হিসেবে শুরু করিনি। শখ থেকেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু ফলন ও দাম দেখে মনে হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে চাষ করা গেলে এটি ভালো আয়ের উৎস হতে পারে। ভবিষ্যতে বাগানটি আরও বড় করার ইচ্ছা আছে।’
দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা জানিয়েছেন, উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া প্যাশন ফল চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা করলে গাছে ফুল ও ফল আসে। দেশে এ ফলের বাণিজ্যিক চাষেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকার নার্সারি উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে প্যাশন ফলের বীজ সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে চারা উৎপাদন ও বিক্রি করছেন।
তিনি আরও জানান, দাউদকান্দির দন্ত চিকিৎসক ফারুক প্রায় দুই বছর আগে এ ফলের চারা সংগ্রহ করে বাড়িতে রোপণ করেছেন। তিনি ফলনও পাচ্ছেন।




