মাদারীপুরে ভিড় বাড়ছে ঢাকামুখী মানুষের, ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
ঈদুল আজহার টানা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার হাজারো মানুষ। আর রবিবার সকাল থেকে মাদারীপুর হয়ে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ দেখা যায়। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেই নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটেছেন কর্মব্যস্ত মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-বরিশাল-মাদারীপুর মহাসড়কের বিভিন্ন বাসে ছিল অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ। অনেক পরিবহনে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকার ঢাকা-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পরার মতো। বিশেষ করে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা।
রবিবার সকাল থেকে মহাসড়কে যান চলাচল মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও বিভিন্ন স্থানে গাড়ির চাপের কারণে কিছু সময় ধীরগতি দেখা যায়। যাত্রীদের অভিযোগ, সাধারণ সময়ে যেখানে ভাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকায় প্রাণ কোম্পানিতে কর্মরত মাদারীপুরের বাসিন্দা রুবেল আহমেদ জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ে তার যাতায়াত ভাড়া ৩০০ টাকার মতো হলেও ঈদের সময় আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা করে গুনতে হয়েছে।
ঢাকার ইডেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজনীন আক্তার জানিয়েছেন, প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসেন তিনি। কিন্তু ছুটির সময় বাড়তি ভাড়া নেওয়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থী পরিচয় দিলেও কোনো ছাড় মেলে না। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও অনেক সময় গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয়।
শিমুলতলা এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া রওশন আরা বেগম তার দুই সন্তানকে নিয়ে পড়েছেন দুর্ভোগে। তার ভাষ্য, বাড়তি ভাড়া দেওয়ার পরও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করায় প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হওয়ার উপক্রম হয়েছে শিশুদের।
আরেক যাত্রী শিমুল জানিয়েছেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে সড়কপথে যাত্রা আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বাসের সুপারভাইজারদের দাবি, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
মাদারীপুর মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম রসূল বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। ছুটি শেষে কর্মমুখী মানুষের চাপ বেড়েছে। ফলে কিছু সময় যানজটের সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। কোনো পরিবহন এ ধরনের অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






