তিন পার্বত্য জেলার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় হচ্ছে সীমান্ত সড়ক
- মোট ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা
- প্রথম পর্যায়ে নির্মিত হয়েছে ৩১৭ কিলোমিটার

ছবিঃ আগামীর সময়
দেশের তিন পার্বত্য জেলায় (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। এজন্য দুর্গম এলাকায় যাতায়াতে ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে নেওয়া সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে।
একনেকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
‘এ প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অগ্রাধিকার ছিল। তারা অনুমোদন করে যেতে পারেনি। ফলে আমরা একনেকে উপস্থাপন করছি। এটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে’, আগামীর সময়কে জানিয়েছেন পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ২৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন সম্ভব হবে।
প্রকল্পটির বিষয়ে জানানো হয়, তিনটি পার্বত্য জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দুর্গম সীমান্ত এলাকাকে সুরক্ষিত রেখে সীমান্ত এলাকায় সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিকে দেশের মূল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে দেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটবে। এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এসব বিষয় বিবেচনায় প্রকল্পের ১ম পর্যায়ে ৩১৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। ২য় পর্যায়ে ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, অবশিষ্ট অংশ পরবর্তীতে নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় নিম্নলিখিত ৬টি সড়কে উন্নত সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি জেলার আওতাধীন নাড়াইছড়ি-লক্ষ্মীছড়া, রাঙ্গামাটি জেলার আওতাধীন বৈরাগীপাড়া-বেতলি ৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলার আওতাধীন মাঝিপাড়া-ঘাসকাপাছড়া ২৫ কিলোমিটার এবং রাঙ্গামাটি জেলার আওতাধীন কারলাছড়া-বড়করদিয়া ২৮ কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে।
আরও আছে রাঙ্গামাটি জেলার আওতাধীন থালীপাড়া-ছাইথ্যংপা ৪৬ কিলোমিটার, বান্দরবান জেলার আওতাধীন ফাতরাজিরা-লিকরি ১০৮ কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কগুলো নির্মাণ হলে ওই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ সাধনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, এই সড়কগুলো নির্মাণের ফলে পার্বত্য এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা বিধান, স্বল্প সময়ে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা ও কৃষিজাত পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ হতে সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে মোট ৩ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটির প্রস্তাব দেওয়া হয়। গত ১৯ জানুয়ারি এটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার দেওয়া সুপারিশ মতে, ব্যয় ৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কমিয়ে মোট ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ, স্থানীয়দের পুনর্বাসন সহায়তা, পরামর্শক সেবা গ্রহণ, অনাবাসিক ভবন (ক্যাম্প নির্মাণ), অনাবাসিক ভবন (স্থানীয়দের কল্যানার্থে স্কুল, পানি সরবরাহ এবং পর্যটকের বিশ্রামাগার) তৈরি করা হবে। এছাড়া অনুপযোগী সড়কে মাটি কাটা, রাস্তার পার্শ্বে মাটির বাঁধ, রাস্তার মাটির পুনঃভরণ, ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট নির্মাণ এবং রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ করা হবে।
এ ছাড়া রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, গাইড পোস্ট নির্মাণ, জিওটেক্সটাইল ও সিসি ব্লক, হেলিপ্যাড তৈরি, ১২টি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ, ৪টি বেইলি ব্রিজ ক্রয় এবং প্রতিস্থাপন, ১৮০টি বক্স কালভার্ট এবং সাইড ড্রেন নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পর্কে বলা হয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর স্বতন্ত্র পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসপেন ডিজাইন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটির ওপর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছে।
সমীক্ষায় প্রকল্পটি কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০২৪-২০২৬ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
















