আসলামের অনুসারীদের অবরোধে যানজট মহাসড়কে

ছবি: আগামীর সময়
আপিল বিভাগে প্রার্থিতা বাতিল নিয়ে সড়ক অবরোধ করে কোনো ধরনের বিক্ষোভ না করার জন্য বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর নির্দেশনা শুনলেন না অনুসারীরা। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় গাছ কেটে সড়কের ওপর ফেলে অবরোধ করেন।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অবরোধের পর আজ মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে নেতাকর্মীরা মহাসড়ক ছেড়ে যান। তবে অবরোধের কারণে শুরু হওয়া যানজট পরিস্থিতি রাত সোয়া ৮টার দিকেও স্বাভাবিক হয়নি বলে হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) আসনে বিজয়ী হন বিএনপি মনোনীত আসলাম চৌধুরী। কিন্তু তার বিরুদ্ধে একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ঋণখেলাপি সংক্রান্তে উচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল করেন। আপিল চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষমাণ থাকায় আদালতের নির্দেশে তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়।
এর ফলে বিজয়ী হলেও আসলাম চৌধুরী গত সাড়ে চার মাসেও শপথ নিতে পারেননি। আজ মঙ্গলবার আনোয়ার সিদ্দিকীর আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। এর ফলে আসলামের প্রার্থীতা বাতিল হয়ে গেছে।
প্রার্থিতা বাতিলের জেরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে আসলাম চৌধুরী কাউকে রাস্তায় নামতে নিষেধ করেন। কিন্তু এরপরও বেলা ১২টা থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্নস্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, দুপুর ৩টার দিকে নগরীর সিটি গেইট থেকে উপজেলার ছোট দারোগারহাট পর্যন্ত মহাসড়কের অন্তত ৩০ স্পটে বিক্ষিপ্তভাবে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।
মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের ডালপালা কেটে রেখে এবং গাছের গুড়ি ফেলে তারা অবরোধ তৈরি করেন। লাঠিসোঠা নিয়ে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা এসময় ‘দুর্দিনের আসলাম ভাই, আমরা তোমায় ভুলিনাই’, ‘এমপি পদ বাতিল হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ – এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
কুমিরা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জাকির রাব্বানী বললেন, ‘দুই ঘণ্টার মতো ব্যারিকেড ছিল। বৃষ্টি নামার পর নেতাকর্মীরা মহাসড়ক ছেড়ে যান। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস মিলে রাস্তা পরিস্কার করা হয়। এরপর যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তবে যানজট এখনও আছে। মহাসড়কে দশ মিনিট ব্যারিকেড থাকলেই তো যানজট লেগে যায়।’




