যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জাহাজ চট্টগ্রামে

ছবি: আগামীর সময়
৬২ কোটি টাকার ২৯ বছরের পুরনো একটি তেলের জাহাজ কিনে বিপাকে পড়েছে দেশের শীর্ষ জাহাজ ভাঙা শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘এসএন করপোরেশন’। সীতাকুন্ডে নিজেদের ইয়ার্ডে ভাঙার আগেই জানা গেল যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় আছে ‘মেমেই’ জাহাজটি। এখন জাহাজটি বিদেশি ক্রেতার কাছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে আছে জাহাজটি।
‘মেমেই’ কেমিক্যাল ট্যাংকারটি আর্ন্তজাতিক বাজার থেকে টনপ্রতি ৫১০ মার্কিন ডলারে কিনে নেয় এস এন করপোরেশন। ১৮০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি ভাঙলে মিলবে ৯ হাজার ৭২৮ টন স্ক্র্যাপ। সে হিসেবে জাহাজটির দাম পড়ে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার মার্কিন ডলার। ডলার ১২৫ টাকা হিসেবে জাহাজের কেনা দাম বাংলাদেশি টাকায় ৬২ কোটি টাকা। জাহাজ ভেঙে অবশ্য এর দ্বিগুণ দামে লোহা বিক্রি করতো প্রতিষ্ঠানটি। তার আগেই এমন খবর এলো।
জাহাজটি কেনার পর নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে আনার আগে গত ১৭ মে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে এস এন করপোরেশন। অনুমোদনের পর ১৮ মে বিদেশি ক্রেতা প্রতিনিধির সঙ্গে এগ্রিমেন্ট হয় প্রতিষ্ঠানটির। ব্যাংক থেকে ঋণপত্র খোলা হয় ২১ মে। এরপর ২৬ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে জাহাজটি।
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে জাহাজটি ভাঙার জন্য নিজেদের ইয়ার্ডে ভিড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এস এন করপোরেশন। এরইমধ্যে জানা গেল মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে জাহাজটি।
অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘মেমেই’ নামের এই কেমিক্যাল ট্যাংকারটিকে ২৮ মে মার্কিন কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। বিষয়টি জানার পর বন্দরের বহির্নোঙর থেকে সীতাকুন্ড ইয়ার্ডে আনার প্রক্রিয়া থমকে যায়।
মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বহন করেছিল মেমেই জাহাজটি। এই কারণে একই প্রতিষ্ঠানের ‘ফ্লোরা’ জাহাজের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সেই জাহাজ কেথায় জানা যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে এস এন করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী বারাকাত উল্লাহকে ফোন দিলে সাড়া দেননি তিনি।
পরে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ‘এখানে এস এন করপোরেশনের দোষ নেই। জাহাজটি বাংলাদেশ জলসীমায় পৌঁছার পরই এমন নিষেধাজ্ঞার খবর জানা গেছে। জানার পর জাহাজ দেশে আনলে হয়তো আইনী জটিলতা তৈরী হতো,’ বলছিলেন তিনি।
আনাম চৌধুরীর ভাষ্য, ‘এই মুহুর্তে জাহাজটি বিদেশি ক্রেতার কাছেই ফেরত যাবে। তবে জাহাজটি যেহেতু বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য আনা হয়নি, জাহাজ ভেঙে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির কথা ছিল— তাই জাহাজ ভেঙে ফেলাটাই ভালো সিদ্ধান্ত হতো। সেই ঝুঁকি হয়তো নেবে না বাংলাদেশ।’




