একমঞ্চে দুই শতাধিক নৃত্যশিল্পীর নান্দনিক দৃশ্যকাব্য

ছবি: আগামীর সময়
একই মঞ্চে দুই শতাধিক শিল্পীর ছন্দময় পদচারণা। সুরের দোলায় মুদ্রার নান্দনিকতা। তাল-লয়ের মূর্ছনায় শিল্পীদের অপূর্ব ভঙ্গিমা। ছন্দে ছন্দে মঞ্চজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল সৌন্দর্য ও সৃজনের অনন্য আবেশ। সম্মিলিত ছন্দে সৃষ্টি হলো এক নান্দনিক দৃশ্যকাব্য। প্রতিটি মুদ্রা, প্রতিটি ভঙ্গিমা আর প্রতিটি আবর্তন মিলেমিশে রচনা করল শিল্পের এক অনুপম মহাকাব্য। যেন একই সুতোয় গাঁথা দুই শত প্রাণের অভিব্যক্তি। নৃত্যের ভাষায় ছন্দের আশ্রয়ে সৌন্দর্যের এক মহাসম্মিলন।
পথচলার ২৬ বছরে ‘ওড়িশী অ্যান্ড টেগোর ড্যান্স মুভমেন্ট সেন্টারের’ আয়োজনে হয়ে গেল দুইদিনের নৃত্য উৎসব ‘অঙ্গকাব্য’।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় সম্মিলিত ওড়িশী নৃত্যে অঙ্গকাব্যের মঞ্চ মাতালেন সেন্টারের শিল্পীরা। মুখরিত হলো জেলা শিল্পকলা প্রাঙ্গন। সাংস্কৃতিক আয়োজনই তো ছিলই। শত, শত সংস্কৃতিকর্মীর সম্মিলনও তৈরি হয়েছিল এ আয়োজনকে ঘিরে।
প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. কুন্তল বড়ুয়ার সভাপতিত্বে সমাপনী আয়োজনে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ রীতা দত্ত, কবি ও নাট্যজন সনজীব বড়ুয়া এবং নাট্যনির্দেশক মুনীর হেলাল।
কথামালার পর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সনজীব বড়ুয়ার গ্রন্থনায় পরিবেশিত হয় নৃত্যালেখ্য ‘জাহো বহ্নিশিখা’। নৃত্যগুরু প্রমা অবন্তীর ভাবনাকে ছন্দে-মুদ্রায় তুলে ধরেন তার শিষ্যরা। ধারা বর্ণনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী কঙ্কন দাশ। সঞ্চালনায় পার্থ প্রতীম মহাজন।
শুক্রবার উদ্বোধনী আয়োজনে ওড়িশী নৃত্যের প্রাথমিক শিখন পদ্ধতি, মঙ্গলাচরণ, বটু ও নবরস পরিবেশিত হয়। এদিন শিক্ষা ও গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। অতিথি হিসেবে মঞ্চে চিলেন জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া ও নাট্যজন শিশির দত্ত।
ওড়িশী নৃত্যের পথিকৃৎ পদ্মবিভূষণ গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের শততম জন্মবার্ষিকীতে পুরো আয়োজনটি তাকে উৎসর্গ করা হয়েছে।



