আমেরিকান টার্মিনাল সচল, স্বাভাবিক এলএনজি মিলবে আগামী সপ্তাহ থেকে

ছবি: আগামীর সময়
আমেরিকান কোম্পানি ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল বুধবার রাত সোয়া তিনটায় মেরামত শেষে টার্মিনাল চালু হয়েছে। তবে গ্যাস মিলছে মাত্র ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এই টার্মিনালের মোট সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই পরিমাণ গ্যাস পেতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা আজ বৃহস্পতিবার ভোরে নিশ্চিত করেছেন এক্সিলারেট এনার্জি সচল হয়েছে। রাতেই সেটি দিয়ে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৬৬২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে দুটি টার্মিনাল। দুটি টার্মিনালের স্বাভাবিক সক্ষমতা ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এলএনজির দুটি টার্মিনাল চালুর ফলে সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দেশ জুড়ে গ্যাস-সংকট রয়েই যাচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান দুটি টার্মিনালের মধ্যে একটি চালায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি। আরেকটি চালায় দেশীয় সামিট গ্রুপ। এই দুটি প্রতিষ্ঠান এলএনজি আমদানি করে না। সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা চুক্তিভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে দুইভাবে এলএনজি আমদানি করে। সেই এলএনজি জাহাজে করে কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছার পর দুটি ভাসমান টার্মিনাল দিয়ে এই গ্যাস রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহ করা তাদের কাজ।
এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা দিনে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গত ২১ জুলাই জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহ করার সময় বয়লারে আগুন ধরে যায়। ১০ মিনিটের মধ্যেই এলএনজি বহনকারী জাহাজকে ভাসমান টার্মিনাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় এই টার্মিনাল। এর পর থেকে টার্মিনালের মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ ছিল। সিঙ্গাপুর থেকে আমেরিকান প্রকৌশলী এনে গ্যাস টার্মিনাল চালু করতে ১৫ দিন সময় লেগেছে প্রতিষ্ঠানটির।
পাশে থাকা সামিট এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা আছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সেই টার্মিনালের মাধ্যমে দিনে ৪৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়ে সংকট সামাল দেওয়া হচ্ছিল।
মহেশখালীর সাগরে থাকা এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল জাহাজটির নাম এক্সিলেন্স। এটি ২০০৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি। ভাসমান জাহাজটি ২১ বছরের পুরনো। ২০১৮ সালে দেশের প্রথম এলএনজি টার্মিনাল হিসেবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। যাত্রা শুরুর পর পাঁচবার বন্ধ হয়েছিল। পুরনো হওয়ার কারণে এতে বারবার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।







