স্পিডবোট বন্ধ করল ইজারাদার, বিনা চিকিৎসায় ঘাটে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

চট্টগ্রাম সন্দ্বীপ স্পীড বোট ঘাটে মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে পারের অপেক্ষায় অ্যাম্বুলেন্স— আগামীর সময়
চট্টগ্রাম সন্দ্বীপ নৌরুটে বিনা ঘোষণায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইজারাদার। নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় সময়মতো চট্টগ্রামে চিকিৎসার জন্য পৌঁছাতে না পেরে ঘাটে বসেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭০ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন।
ইজারাদারের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও স্থানীয় সূত্র বলছে ঘাট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয় বর্তমান ইজারাদার।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুপ্তছড়া ঘাটে তার মৃত্যু হয়।
মৃত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন সন্দ্বীপের গাছুয়া ইউনিয়নের কাসেম মার্কেটসংলগ্ন রহমতেরগো বাড়ির বাসিন্দা। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, লিভারজনিত অসুস্থতায় মঙ্গলবার রাতে তাকে স্থানীয় গাছুয়া স্বাস্থ্য প্রকল্পে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের ভাতিজা রেজাউল করিম বলেছেন, ‘সকাল ৯টার দিকে চাচাকে নিয়ে গুপ্তছড়া ঘাটে আসি। জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রামে নেওয়ার জন্য স্পিডবোটের খোঁজ করলে তারা বোট চলাচল বন্ধ থাকার কথা জানান। তখন ভাটা থাকায় ফেরি, স্টিমার কিংবা পণ্যবাহী নৌযানেও যাওয়ার সুযোগ ছিল না। নৌযানের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাচার মৃত্যু হয়।’
কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট পরিচালনাকারী বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত আদিল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন নয়ন জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে গুপ্তছড়া ঘাটের কাউন্টারে এসে কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে ঘাট পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, 'স্পিডবোট চলাচল বন্ধের বিষয়ে আমি জানি না। ঘাট কর্তৃপক্ষ চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগও দেয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর বিষয়ে শুনেছি। তবে তাকে চট্টগ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করে নেওয়া যায়নি, এটিও আমাকে কেউ জানায়নি। মৃত্যুর পরেও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব।'
স্থানীয় একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, এটি মূলত ইজারাদারদের দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব। আগে এই ঘাটের ইজারাদার ছিলেন সন্দ্বীপের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তার পার্টনার ছিলেন নয়ন। ৫ আগস্টের পর কাগজে-কলমে ঘাট নয়নের নামে দিয়ে দেওয়া হয়। আনোয়ার হোসেনের অংশ হস্তান্তর করা হয় উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শহীদুল ইসলাম শহীদের কাছে। অনেকদিন ধরে ওই অংশের পাওনা দিচ্ছে না নয়ন। এটা নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব। এই কারণে স্পিডবোট বন্ধ করে দেয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক নয়ন শীল বলেছেন, ‘এটি তাদের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব। আমি বোট চালু না করলে লাইসেন্স বাতিল করে দেব বলে জানিয়েছি।’







