হরমুজ এড়িয়ে ফুজাইরা থেকে আসছে এক লাখ টন তেল

ছবি: আগামীর সময়
হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসছে এক লাখ টন অপরিশােধিত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরুর পর আরব আমিরাত থেকে আসা তেলের জাহাজ এটিই প্রথম।
এর আগে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেলের জাহাজ এসেছিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে। সেই তেল নিয়ে ৮ মে থেকে সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি আবার চালু হয়েছে।
এমটি ফসিল জাহাজের এই তেলও পরিশোধন হবে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। অপরিশোধিত তেল আসা নিশ্চিত হওয়ায় সরকারি শোধনাগার থেকে ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল জোগান দেওয়া সম্ভব হবে।
আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি ফসিল’ রওনা দিয়েছে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায়। ফুজাইরা বন্দর থেকে ওমান উপসাগর অতিক্রম করে জাহাজটি আরব সাগর দিয়ে ভারতের দক্ষিণ উপকূল শ্রীলঙ্কার পাশ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করবে। ৩ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিয়ে ২৩ মে নাগাদ সেটি কক্সবাজারে কুতুবদিয়া সাগরে পৌঁছবে। জেবেল আলী বন্দর থেকে হরমুজ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছতে ৩ হাজার ৫০০ নটিক্যাল মাইল লাগত।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলছেন, ‘এখন থেকে দুটি দেশ থেকেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসবে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে। ফলে অপরিশোধিত তেল দেশে সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি আর তেলের জন্য বন্ধ করতে হবে না।’
বছরে ১৪-১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরকারিভাবে আমদানি হয়। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি 'আরামকো' থেকে বছরে ৮ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে। বাকি ৭ লাখ টন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি 'এডনক' থেকে আনে। হরমুজ প্রণালি হয়েই দুটি দেশের তেল জাহাজে আসে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর এবং আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দর থেকে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ বন্ধ হয়ে পড়ায় সেই তেল বিকল্প পথে আসা শুরু হয়েছে।





