ফাঁসির অপরাধ করেও ধর্ষকের যাবজ্জীবন, যা বললেন আদালত

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলার আসামি শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার মতো অপরাধ করেছেন। আদালত রায়ে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে এরপরও তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড থেকে আসামিকে রেহাই দেওয়ার বিষয়ে বিচারক রায়ে বলেছেন, অতীতে অপরাধের আর কোনো রেকর্ড না থাকায় আদালতের কাছে এ শাস্তি যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে।
আজ বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার মাধ্যমে ধর্ষণের অপরাধে আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন। এ রায়ে আসামির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড।
রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণে সক্ষম হয়েছে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন। পর্যবেক্ষণে বিচারক বললেন, ‘শিশু ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ শুধু শারীরিক ক্ষতি করে না। বরং শিশুর মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিশু সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও সুরক্ষার আবশ্যকীয় অনুসঙ্গ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।’
‘কোনো ব্যক্তি যখন একটি শিশু ওপর যৌন নির্যাতন চালায়, তখন সে শুধু একটি শিশুর অধিকার লঙ্ঘন করে না। বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও আঘাত করে। যার দরুণ এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া আবশ্যক। যাতে অন্যরা এমন অপরাধ করতে নিরুৎসাহিত হয়।’
কিন্তু আসামি মনিরের বিচার করতে গিয়ে প্রকোপন ও প্রশমনমূলক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করলেন বিচারক, ‘শিশু ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করায় আসামি মনির হোসেন সমাজের কলঙ্ক এবং আইনশৃঙ্খলার প্রতি হুমকি মর্মে প্রতীয়মান হয়। শিশু ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট অপরাধ এই মামলার প্রকোপনমূলক পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হলেও আসামির বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা অপরাধের ইতিহাস পাওয়া যায়নি। আসামি প্রথমবারের মতো অপরাধী হওয়ায় এ মামলার ক্ষেত্রে তিনি প্রকোপনমূলক পরিস্থিতির আওতাভুক্ত।’
ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত নাকি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা বা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংঘটিত হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনাকে আইনের ভাষায় প্রকোপন ও প্রশমনমূলক পরিস্থিতি বলা হয়।
প্রকোপন ও প্রশমনমূলক পরিস্থিতির তুলনামূলক বিবেচনায় আসামি মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়ায় আদালতের কাছে অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে বলে বিচারক উল্লেখ করেন।
গত ২১ মে দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ডেকোরেশন কর্মী মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলার বিচার শেষ হয়েছে মাত্র আট কার্যদিবসে।





