চুয়েটের নতুন ভিসির পক্ষে ৫ সাবেক ছাত্রের সংবাদ সম্মেলন

চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
নিয়োগের পরও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের পক্ষে দাঁড়ালেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একদল সাবেক শিক্ষার্থী।
যারা ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে দ্রুত ক্লাসে ফিরে যাবার এবং সরকারের নিয়োগ দেওয়া উপাচার্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্য দিলেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।
এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন চুয়েট কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সাবেক জিএস রিয়াসাদ হাসান সুমন। এ সময় সাবেক ভিপি ও জিএস মিলিয়ে পাঁচজন সাবেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরও তিনজনকে বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে বলা হলেও তাদের নাম-শিক্ষাবর্ষ উল্লেখ করা হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ১৫ দিন ধরে চুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সরকার প্রথমে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর ৫৬ দিন পর প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ বিবেচনায় কুয়েটের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়।
তাদের অভিযোগ, চুয়েটের বর্তমান অচলাবস্থার পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বার্থ কাজ করছে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ক্যাম্পাসে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি বিগত সরকারের সময়ের সুবিধাভোগী একটি অংশ নিজেদের অনিয়ম ও দুর্নীতি আড়াল করতে চলমান অস্থিরতাকে কাজে লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
‘চুয়েট থেকেই উপাচার্য দিতে হবে— এমন কোনো বিধিবদ্ধ নিয়ম নেই। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন উপাচার্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করলে তখন নিয়মতান্ত্রিকভাবে দাবি-দাওয়া বা আন্দোলন করা যেতে পারে।’
প্রশ্নের জবাবে সাবেক ভিপি ইলিয়াস হোসেন বললেন, ‘তারা কোনো পক্ষের হয়ে নয়, নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষার জন্য সংবাদ সম্মেলন করছেন।’
তিনি আরও বললেন, ‘উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম তৃতীয় শ্রেণির অধ্যাপক। নতুন নিয়োগ পাওয়া শেখ শরীফুল আলম তার থেকেও সিনিয়র ও দক্ষ। সরকারের নিয়োগের পর নতুন উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালনের সুযোগ না দেওয়ার এখতিয়ার শিক্ষার্থীদের নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার এবং শিক্ষকদের একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক জিএস শফিকুল ইসলাম খান, সাবেক জিএস রিয়াসাদ হাসান সুমন ও সাবেক কালচারাল সেক্রেটারি নাসিম হাসান উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যুক্ত হন।



