আমদানি ফলে ভরপুর চট্টগ্রামের ফলমণ্ডি

চট্টগ্রাম স্টেশন রোড এলাকায় ফলমণ্ডি থেকে আজ সকালে তোলা ছবি। রনি দে, চট্টগ্রাম
মৌসুম প্রায় শেষ। তাই আমসহ দেশি ফলের সরবরাহ কমেছে চট্টগ্রামে ফলের আড়ত বিআরটিসি ফলমণ্ডি বাজারে। বাজারে আছে মৌসুমের শেষজাত বারি-৪ ও আশ্বিনী আম। এই আম থাকবে আরও কয়েক সপ্তাহ। আছে দেশে উৎপাদিত পেয়ারা, ড্রাগন ফল। এই সুযোগে আবারও বাজার দখল করছে আমদানির আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙ্গুর, খেঁজুর, ডালিমসহ বেশকিছু ফল। নগরজুড়ে খুচরা দোকানি, ফুটপাতের ভ্যানগাড়িতে হরেক রকম আমদানি ফল বিক্রি হচ্ছে।
ফলমণ্ডির আড়তদার নাসির উদ্দিন মাহমুদ জানালেন, দেশি ফলের দাপট থাকে তিন মাস। বাকি ৯ মাস আমদানি নির্ভর ফল দিয়ে চলে এই বাজার। এখন আম প্রায় শেষ। আম, পেয়ারা ও ড্রাগন ফল মিলে দিনে ৭ থেকে ৮টি ট্রাক দেশি ফল বাজারে প্রবেশ করছে। আগস্টের মাঝামাঝিতে দেশি ফল আর থাকবে না। পুরো বাজারই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে।
ফলমণ্ডির আমদানিকারক নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, এখন আমদানির ফল আসা বেড়েছে। দিনে ২০ট্রাক ফল প্রবেশ করছে ফলমণ্ডিতে। এই সংখ্যা আগস্টে আরো বাড়বে। মৌসুমী ফলের যখন বাজার ভরপুর ছিল তখন দিনে ১২ ট্রাক আমদানি ফল আসতো। মৌসুমী ফলের সময় আমদানি আমরা কমাই।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারতীয় ডালিম, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীনের আপেল, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড ও মিশরের কমলা এবং চীনের আঙুর নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে। যদিও মিশর থেকে কমলার আমদানি বর্তমানে তুলনামূলক কম। বর্তমানে পাইকারি বাজারে ভারতীয় ডালিমের ক্যারেট বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকায়। কমলার ক্যারেট ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং চীনা আঙুরের ছোট বক্স ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি দামের পার্থক্য আপেলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার আপেলের ক্যারেট বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৮০০ টাকায়, আর চীনের আপেল বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। স্বাদ, মানে ভিন্নতা থাকায় দামে প্রায় আড়াই হাজার টাকার ব্যবধান।
ফল ব্যবসায়ী খোন্দকার বলেছেন, 'দক্ষিণ আফ্রিকার আপেল আকার, রং, সংরক্ষণ ক্ষমতা ও স্বাদের কারণে প্রিমিয়াম মানের হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামের কারণে চীনের আপেলের চাহিদা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে বেশি।'






