মা-বাবার ওপর প্রতিশোধ নিতে ছেলেকে খুন, আসামির মৃত্যুদণ্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মা-বাবার ওপর প্রতিশোধ নিতে ৭ বছরের ছেলেকে খুন করে লাশ গুমের চেষ্টার মামলার এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নিশাদুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন বলে বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানালেন।
দণ্ডিত আল আমিন (৪৪) পেশায় একজন রিকশাচালক। বাড়ি কিশোরগঞ্জে হলেও থাকতেন চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে। একই এলাকায় থাকতেন তার স্ত্রীর বড় বোনের পরিবারও।
মামলার নথির তথ্য, আল আমিন পারিবারিক ঝগড়ার জেরে নিয়মিত তার স্ত্রী সান্ত্বনা আক্তারকে মারধর করতেন। সান্ত্বনার বড় বোন সীমা ও তার স্বামী মাহবুব এজন্য আল আমিনকে কয়েকবার হুমকিধমকি দেন। এতে আল আমিন তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। আল আমিন মাহবুবের কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা চাওয়ায় তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। তখন এলাকার লোকজন আল আমিনকে চড়-থাপ্পড় দেন। এতে ক্ষুব্ধ আল আমিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে মাহবুবের ছেলে মাহফুজকে সাগর দেখানোর নামে নিজের রিকশায় নেন। এরপর হালিশহরের গলিচিপাপাড়া টোল রোড এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। এরপর তার লাশ টোল রোডের পাশে জলাশয়ে ফেলে দেন। সন্ধ্যার পরও বাসায় না যাওয়ায় মাহফুজকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ গোপন তথ্যে আল আমিনকে আটক করে তার তথ্যে লাশ উদ্ধার করে।
রায়ে আদালত আল আমিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। লাশ গুমের চেষ্টার দায়ে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।





