৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াবে চসিক
- আগামী ২৮ জুন নগরের ১ হাজার ৩২১টি কেন্দ্রে চলবে ক্যাম্পেইন
- ৬টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ ‘রেড জোন’ ঘোষণা, বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্যোগ
- এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা

চসিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন— আগামীর সময়
চট্টগ্রাম নগরের প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে আগামী ২৮ জুন (রবিবার) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নগরজুড়ে বিশেষ মশক নিধন ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
আজ বৃহস্পতিবার টাইগারপাস চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিটি মেয়র মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মেয়র বললেন, ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নগরীর কোনো শিশুই যেন এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা ‘কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে’ নীতিতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডের সাতটি ইপিআই জোনের অধীনে ১ হাজার ৩২১টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। কর্মসূচিতে মোট ২ হাজার ৬৫৮ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ৯২ হাজার শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার শিশুকে একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। গত বছর এই কর্মসূচিতে চসিকের সাফল্যের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এবার শতভাগ সফলতার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
ভাসমান ও পথশিশুদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মেয়র বলেছেন, নিয়মিত কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে ভ্রাম্যমাণ টিমের মাধ্যমে পথশিশুদেরও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করা হবে।
ডেঙ্গুর ৬টি ‘রেড জোন’ ও ক্রাশ প্রোগ্রাম নগরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চলতি বছরে এ পর্যন্ত মহানগরে ১৫৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে জৈব ব্যাকটেরিয়া বিটিআই প্রয়োগসহ লার্ভিসাইড ছিটানো হচ্ছে। চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ নগরীর ২, ৩, ১০, ১৭, ১৯ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকায় মশা নিধনে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ পরিচালনা করা হবে বলে জানান মেয়র।
তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। যেসব বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন বা বাণিজ্যিক স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘প্রতি শনিবার অন্তত ১০ মিনিট সময় দিয়ে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিজেদেরই ফেলে দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি ডেঙ্গুমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।’





