অর্থমন্ত্রী
দেশবাসীর কাছে আকুতি, আমাদের একটু সময় দেন

ছবি: আগামীর সময়
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক জায়গায় নিতে দেশবাসীর কাছে সময় চেয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রামের ইতিহাসে প্রথম অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার দেশবাসীকে অর্থনীতির গতিপথের দিশা দেখাবেন আমির খসরু। বাজেটকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতির হালচাল সাংবাদিকদের কাছে সংক্ষেপে তুলে ধরেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর উত্তর কাট্টলীতে নিজ বাড়ির দারুস সালাম জামে মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন অর্থমন্ত্রী। এরপর তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
এবার কোরবানির ঈদে দ্রব্যমূল্য বাড়েনি বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘এবার দ্রব্যমূল্য কমেছে। কোরবানির ঈদে সাধারণত জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, এবার বরং কমেছে। আমরা এই ধারাটা অব্যাহত রাখতে চাই। চেষ্টা করছি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি। আশা করি, ক্রমান্বয়ে দ্রব্যমূল্য কমে আসবে। একটু সময় দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘খালি প্রবৃদ্ধির কথা চিন্তা করলে তো হবে না। সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির সুফল পেতে হবে। দ্রব্যমূল্য যদি সাধারণ মানুষের আওতার বাইরে চলে যায়, তাহলে তো তারা অর্থনীতির সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।’
বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেছেন, ‘দেশে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি আমরা বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে পেয়েছি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। এরপরও এই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আমাদের সঠিক জায়গায় আনতে হচ্ছে। আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
দেশবাসীর কাছে সময় চেয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে আবেদন করছি, একটু সময় দিতে হবে। একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক জায়গায় আনা এবং তারপর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া— এজন্য সময় প্রয়োজন। দেশের মানুষের কাছে আমাদের একটাই আকুতি, একটাই আবেদন, এ সময়টুকু আমাদের একটু দেন। আমরা নির্বাচিত সরকার হিসেবে আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ। আমরা একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।’
ঈদুল আজহা মানে শুধু গরু জবাই করে মাংস খাওয়া নয় বলেও মন্তব্য করেন আমির খসরু। বলেছেন, ‘ঈদুল আজহা মানে হচ্ছে ত্যাগ। আমাদের ত্যাগ করা শিখতে হবে, এটাই মূল ভাবনা। নিজে ত্যাগ করে অন্যের জন্য কিছু করতে হবে। দেশের জন্য করতে হবে। মানুষের জন্য করতে হবে। প্রতিবেশীর জন্য করতে হবে। ত্যাগের যে মহিমা, সেটা ধারণ করতে হবে। সবকিছু আমাকে পেতে হবে— এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
দেশে সবাই যেন সবাইকে সম্মান করে, এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে বলেও মত দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।






