মনোরেলের জালিয়াত চক্রের জাল খুলনা ও মোংলা বন্দরে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম নগরে মনোরেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি জালিয়াত চক্র। বিশ্বখ্যাত দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে চট্টগ্রামে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে নজর চক্রটির। শুধু এটুকুই নয়, খুলনা ও মোংলা বন্দরেও জাল ছড়িয়েছে চক্রটি।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এ জালিয়াত চক্রের মূল হোতা কাউছার আলম চৌধুরী। তিনি নিজেকে মিসরের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘দি আরব কন্ট্রাক্টরস’ এবং বৈশ্বিক নির্মাণ জায়ান্ট ‘ওরাসকম কনস্ট্রাকশন’-এর একমাত্র অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছেন।
মজার ব্যাপার হলো, দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানেরই নাম ও লোগো জালিয়াতি করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। কিন্তু ওরাসকম কর্তৃপক্ষ আগামীর সময়কে স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কোনো স্থানীয় প্রতিনিধি নেই। কাউছার আলম নামে কোনো ব্যক্তি ওরাসকমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন।
এদিকে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই এই চক্রটির সঙ্গে প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) তথ্য যাচাই না করে বৈদেশিক বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রকল্প ভেবে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়নে দ্রুত সহযোগিতা করতে সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দিয়েছেন বিডার পরিচালক ড. মো. হুমায়ুন কবির খান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে শুধু এই প্রকল্পই নয়, খুলনা ও মোংলা বন্দরেও নজর রয়েছে এই চক্রটির। ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই খুলনা ক্লাবে সুন্দরবন ডেল্টা গ্রোথ ইনিশিয়েটিভের (এসডিজিআই) সঙ্গে দি আরব কনস্ট্রাকশন ও ওরাসকম কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি হিসেবে চুক্তি করেন কাউছার আলম চৌধুরী। খুলনায় ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে এ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে এসডিজিআইর সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন আলী নাজির শাহীন। একই বছরের ১১ আগস্ট মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে এসডিজিআই। সেখানে সদস্য সচিব হিসেবে আলী নাজির শাহীন ও দি আরব কনস্ট্রাকশন এবং ওরাসকম কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি হিসেবে কাউছার আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তারা মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে জার্মানির প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহী বলে কর্মকর্তাদের লোভ দেখান।




