সৈকতের সেরা স্বাদের যত খাবার

সমুদ্রসৈকত মানে তো কেবল নীল জল আর সোনালি বেলাভূমি নয়।
সমুদ্রসৈকত মানে তো কেবল নীল জল আর সোনালি বেলাভূমিই নয়। সৈকতের অন্যতম আকর্ষণ যে স্থানীয় খাবার এ-কথা ভ্রমণপিপাসু মাত্রই জানে। একেক দেশের সৈকতে একেক রকমের খাবারের সুবাস ভেসে আসে। কোথাও হয়তো পাওয়া যায় ভুট্টা পোড়ানোর ধোঁয়া, কোথাও ডাবের শাঁস, আবার কোথাও গরম গরম ডোনাট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাঁচজন খ্যাতনামা শেফ জানালেন তাঁদের সবচেয়ে প্রিয় বিচ খাবারের গল্প। জেনে নেওয়া যাক-
ভুট্টা থেকে ডোনাট—সৈকতের বিচিত্র স্বাদ
ভারতের মুম্বাইয়ের সমুদ্রতীরে বর্ষাকালে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হলো কয়লার আগুনে পোড়া ভুট্টা। ভুট্টা সেঁকে তার ওপর লেবু ঘষে দেওয়া হয়, সঙ্গে লবণ ও মরিচের গুঁড়ো। এই সহজ অথচ দারুণ স্বাদের খাবার মুম্বাইবাসীর কাছে সমুদ্রের স্মৃতিরই একটি অংশ।
ব্রাজিলের সৈকতে পাওয়া যায় নানা ধরনের খাবার। তবে শেফ ইক্সতা বেলফ্রেজের সবচেয়ে প্রিয় ‘পাস্তেল’। মুচমুচে ভাজা পেস্ট্রির ভেতরে থাকে কাঁকড়ার মাংস আর কলার পুর। মিষ্টি ও নোনতা স্বাদের এই অভিনব সংমিশ্রণ স্থানীয়দের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
পর্তুগালের সমুদ্রসৈকতে হাঁটলে প্রায়ই শোনা যায় ফেরিওয়ালাদের ডাক- ‘বোলা দে বারলিম!’ এটি আসলে ডিমের কাস্টার্ড ভরা নরম ডোনাট। গরমের দিনে ডোনাট খাওয়ার কথা অদ্ভুত মনে হলেও, সমুদ্রে সাঁতার কাটার পর এই মিষ্টান্নই অনেকের কাছে ভ্রমণের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বাদ।
ডাবের শাঁস থেকে সামুদ্রিক মাছ
মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সৈকতে বিক্রি হয় একেবারে টাটকা ডাব। প্রথমে ডাবের পানি পান করা হয়, এরপর ডাব কেটে তার নরম শাঁস বের করে দেওয়া হয়। সেই শাঁসের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয় লেবুর রস, লবণ ও ঝাল মরিচের গুঁড়ো। মিষ্টি, টক আর ঝালের এই মিশ্রণ গরমের দিনে অসাধারণ স্বস্তি এনে দেয়।
ক্যারিবীয় দ্বীপ অ্যান্টিগার মানুষের কাছে সৈকতের আসল খাবার 'সিজনড রাইস'। এটি সামুদ্রিক খাবার, ভাত ও লবণ দেওয়া মাংস দিয়ে তৈরি এক ধরনের একপাত্রের খাবার। সৈকতের ছোট দোকান বা ফেরিওয়ালাদের কাছেই এর প্রকৃত স্বাদ মেলে।
অন্যদিকে সাইপ্রাস ও তুরস্কের উপকূলে জনপ্রিয় তাজা লাল মুলেট মাছ। হালকা কর্নমিল বা সুজিতে মেখে মাছগুলো ভেজে কিংবা গ্রিল করে পরিবেশন করা হয়। সঙ্গে থাকে লেবুর রস, পেঁয়াজ আর রকেট শাক। সমুদ্রের ধারে বসে সদ্য ধরা মাছের এই স্বাদ স্থানীয়দের কাছে গ্রীষ্মের অবিচ্ছেদ্য স্মৃতি।
দেশভেদে সৈকতের খাবার আলাদা হলেও একটি বিষয় একই—প্রতিটি খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্থানীয় সংস্কৃতি, মানুষের স্মৃতি আর সমুদ্রের বিশেষ আবহ। তাই নতুন কোনো সমুদ্রসৈকতে গেলে শুধু ঢেউ নয়, সেখানকার স্থানীয় খাবারের স্বাদও নিতে ভুলবেন না।
সূত্র: গার্ডিয়ান






