বোধহয়

নকিয়ার সেই ‘আমপাড়া’ মোবাইলের মতোই হারিয়ে যাবে আজকের ‘সবজান্তা’ স্মার্টফোনও! হাতের ‘লাঠি’ হয়ে দিন-রাত মুঠোয় মুঠোয়; কিংবা পাশ বালিশের সঙ্গী হয়ে থাকা এই আজব বিস্ময়ের আয়ুও নাকি আর বেশি দিন নেই! বড়জোর ২০৫০! এর পরেই আসছে প্রযুক্তি বিশ্বের সেই নয়া ধামাকা— চশমা ফোন! ২০২৪ সালে; অর্থাৎ আরও দুই বছর আগেই এই দাবি করেছেন মেটার প্রধান এআই গবেষক ইয়ান লেকুন। অবিশ্বাস্য এই ‘নতুন’ নিয়ে এরই মধ্যে কয়েকটি নিবন্ধও বেরিয়েছে প্রযুক্তিপাড়ার দৈনিকগুলোয়।
সায়েন্স ফিকশন সিনেমা দেখে দেখে জমে থাকা আফসোসের পাহাড় ভাঙতেই এ সুখবর নিয়ে আসছে মেটা। আজ থেকে ১০-১৫ বছর পর এই চশমা ফোনে ছেয়ে যাবে বিশ্ববাজার।
এ সম্পর্কিত এক আলোচনা সভায় লেকুন জানিয়েছেন, আমাদের জীবন সহজ করবে এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। এখন আমরা পকেটে স্মার্টফোন নিয়ে ঘুরি। এক দশক পর আমাদের পকেটে থাকবে কম্পিউটার। চোখে ‘অগ্মেনটেড রিয়ালেটি চশমা’। সেখানে উঠবে কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু। স্মার্টফোন পকেট থেকে বের না করেই চশমায় দেখা যাবে সব।
অর্থাৎ শেষের পথে স্মার্টফোনের বাহাদুরিও! ভবিষ্যৎ পৃথিবী এত ব্যস্ত হয়ে উঠবে যে, বারবার পকেটে হাত দেওয়ার মতো অত বেহুদা সময় থাকবে না হাতে। চোখের চশমাতেই থাকবে পুরো দুনিয়া। ‘হে..ই মেটা’ বলে এক আদেশেই দেখা যাচ্ছে দরকারি অ্যাপ। ছবি-ভিডিও সব মুখের কথায়। ধিপধাপ সাউন্ডে বাজবে গান। চশমার কাচে ভেসে উঠছে স্মার্টফোনের যাবতীয় সব ফিচার। ঘাড় নিচু না করে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই পড়া যাবে সংবাদ ও খুদে বার্তাও। একেবারে মাল্টিটাস্কিং জীবন! এক হাতে খাবার আর অন্য হাতে মোবাইল স্ক্রলিংয়ের ধকল আর থাকবে না। চোখের ইশারাতেই হবে স্ক্রলিংয়ের কাজ। খাওয়া চলবে মুখের তালে।
ভবিষ্যদ্বাণী এখন প্রায় বাস্তব
কয়েক বছর আগে মার্ক জাকারবার্গের মেটা রেই-বান মেটা স্মার্টগ্লাস তৈরির কাজ করছিল। প্রায় সফল তাদের এই আবিষ্কার। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসে তাদের স্মার্টগ্লাস। প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে এই চশমা এখন অনেক জনপ্রিয়। তারা এই চশমা ব্যবহার করে করতে পারেন অডিওসহ ভিডিও। ডান কাচের ওপর ভেসে ওঠে বার্তা, ভিডিও কল। বাইরে থেকে কেউ তা দেখে বুঝতে পারবেন না। উদ্ভাবনে প্রযুক্তি এভাবে এগিয়ে গেলে ১৫ বছর পর স্মার্টফোন হয়ে উঠতে পারে ‘ছেলের হাতের খেলনা’।




