শিল্প, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির অনন্য মেলবন্ধন
বিশ্বের সাতটি দৃষ্টিনন্দন পাসপোর্ট

সংগৃহীত ছবি
শুধু ভ্রমণের একটি নথি নয় আমদের পাসপোর্ট। একটি দেশের সংস্কৃতি, পরিচয়, ইতিহাস ও সৃজনশীলতারও প্রতিফলনও এটি। বাইরে থেকে বেশিরভাগ পাসপোর্ট সাধারণ মনে হলেও, কিছু দেশ তাদের পাসপোর্টে যুক্ত করেছেন লুকানো অলংকরণ। যুক্ত করেছেন অতিবেগুনি রশ্মিতে দৃশ্যমান নকশা। অনেক দেশের পাসপোর্টে আছে গল্পনির্ভর উপস্থাপনাও। উদ্ভাবনী গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ক্ষুদ্র শিল্পকর্মে পরিণত হয়েছে পাসপোর্ট। তুলে ধরা হলো বিশ্বের সবচেয়ে অনন্য নকশার সাতটি পাসপোর্ট।
১. নরওয়ে
নরওয়ের পাসপোর্টকে বিবেচনা করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর পাসপোর্টগুলোর একটি হিসেবে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে দেশটির প্রাকৃতিক দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত মিনিমালিস্ট বা পরিমিত নকশা। প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে ফিয়র্ড, পর্বত এবং উত্তরাঞ্চলের দৃশ্য। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো অতিবেগুনি রশ্মিতে দৃশ্যমান নকশা। ইউভি আলোতে পাতাগুলোতে উদ্ভাসিত হয় অরোরা বোরিয়ালিস বা মেরুজ্যোতির ঝলমলে ছবি। এতে পাসপোর্টটি যেমন দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে, তেমনি বাড়ে এর নিরাপত্তাও।
২. ফিনল্যান্ড
ফিনল্যান্ড তাদের পাসপোর্টে অভিনবত্ব এনেছে। একটি চলমান মুস হরিণের অ্যানিমেশনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে নতুনত্ব। মজার ব্যাপার হলো দ্রুত পাতাগুলো ওল্টালে মুসটিকে হাঁটতে দেখা যায়। যেন একটি ফ্লিপবুক। এ ছাড়া এতে ফিনল্যান্ডের প্রকৃতি ও জাতীয় পরিচয় থেকে অনুপ্রাণিত মার্জিত অলংকরণ রয়েছে। যা পাসপোর্টটিকে একই সঙ্গে করে তুলেছে কার্যকর ও নান্দনিক।
৩. কানাডা
কানাডার পাসপোর্ট তার গোপন অতিবেগুনি রশ্মি দিয়ে তৈরি শিল্পকর্মের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ইউভি আলোতে সাধারণ পাতাগুলোতে জ্বলে ওঠে আতশবাজি, ম্যাপল পাতা, বিখ্যাত স্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক প্রতীক। এটি কানাডার ঐতিহ্যকে উদযাপন করে। পাশাপাশি ব্যবহার করে উন্নতমানের জালিয়াতি প্রতিরোধ প্রযুক্তিও। ফলে শিল্পের অংশ হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
৪. নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের পাসপোর্টে মাওরি সংস্কৃতি ও দেশটির আদিবাসী ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্ট। এর কালো প্রচ্ছদে রয়েছে একটি স্নিগ্ধ ও আধুনিক সৌন্দর্য। ভেতরের পাতাগুলোতে দেখা যায় সিলভার ফার্নের নকশা। রয়েছে স্থানীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং ইংরেজি ও মাওরি উভয় ভাষার ব্যবহার। এর গাঢ় ও পরিশীলিত নকশা সহজেই নজর কেড়ে নেয় বিশ্ববাসীর।
৫. জাপান
সম্প্রতি জাপান তাদের পাসপোর্ট সাজিয়েছে নতুনভাবে। এতে স্থান পেয়েছে উকিয়ো শিল্পী কাৎসুশিকা হোকুসাইয়ের বিখ্যাত শিল্পকর্ম। যার মধ্যে রয়েছে তার বিশ্বখ্যাত সিরিজ মাউন্ট ফুজির ছত্রিশটি দৃশ্য। প্রতিটি পৃষ্ঠা যেন একটি শিল্প প্রদর্শনীর অংশ। যেসব পৃষ্ঠাগুলোতে চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে জাপানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির।
৬. সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ডের পাসপোর্ট বিশ্বজুড়ে তার আধুনিক ও পরিশীলিত গ্রাফিক নকশার জন্য প্রশংসিত। এতে ব্যবহার করা হয়েছে গাঢ় টাইপোগ্রাফি, ভূ-প্রাকৃতিক রেখাচিত্র, জ্যামিতিক নকশার বিন্যাস এবং লাল-সাদা রঙের সূক্ষ্ম অলংকরণ, যা তুলে ধরে সুইস আইডেন্টিটিকে। নকশাবিদদের কাছে এটি বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও পরিশীলিত পাসপোর্টগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
৭. বেলজিয়াম
বেলজিয়াম তাদের অন্যতম সাংস্কৃতিক সম্পদ কমিক শিল্পকে স্থান দিয়েছে পাসপোর্টে। এর পাতাগুলোতে দেখা যায় জনপ্রিয় বেলজীয় কমিক চরিত্র, স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতীকের ব্যবহার। এতে পাসপোর্টটি যেমন স্মৃতিময় ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, তেমনি এর নিরাপত্তার মানও রয়েছে অক্ষুণ্ণ।





