আগামীর সময়

শিশুসদৃশ ‘সেক্স ডল’ বিক্রি, ইইউর নজরদারিতে শেইন

শিশুসদৃশ ‘সেক্স ডল’ বিক্রি, ইইউর নজরদারিতে শেইন

সংগৃহীত ছবি

চীনা ফ্যাশন জায়ান্ট শেইনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল আইন ভঙ্গ করে বিক্রি করছে শিশুসদৃশ সেক্স ডল বা যৌন পুতুল।

ইইউর নির্বাহী সংস্থা ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, অবৈধ পণ্য বিক্রি ঠেকাতে চীনা কোম্পানিটি কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে তদন্তে। এর মধ্যে এমন কনটেন্ট আছে যা ‘শিশু যৌন নির্যাতন সামগ্রী’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এছাড়া শেইনের ওয়েবসাইটে ‘প্রলুব্ধকর ডিজাইন’ এবং ক্রেতাদের কাছে পণ্য ও কনটেন্ট সুপারিশ করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সিস্টেম কতটা স্বচ্ছ—তাও তদন্ত হবে।

এক বিবৃতিতে শেইন বলেছে, ‘অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট ও আচরণের ঝুঁকি কমানো আমাদের প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা ও উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য।’

গত বছর ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়, শেইনের ওয়েবসাইটে ‘শিশুসদৃশ চেহারার যৌন পুতুল’ বিক্রি হচ্ছে। সে সময় সংস্থাটি জানায়, তারা সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলেছে ওই পণ্যগুলো। নিষিদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের এবং বিশ্বজুড়ে নির্বিশেষে সব ধরনের যৌন পুতুল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে শিশুসদৃশ যৌন পুতুলের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করেছে বলেও জানায় শেইন।

ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, অবৈধ পণ্য বিক্রি সীমিত করতে শেইন কী ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করে তা তদন্ত হবে। এর মধ্যে অস্ত্রও থাকতে পারে, তবে নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে শেইনের কাছে একাধিকবার তথ্য চেয়েছে কমিশন। ইসির মুখপাত্র টমাস রেগনিয়ের বিবিসিকে বলেন, শেইন ‘খুব সহযোগিতাপূর্ণ’ ছিল।

তবে ইসি জানিয়েছে, কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের জন্য পদ্ধতিগত ঝুঁকি তৈরি করছে— এমন ইঙ্গিত পেলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করতে পারে তারা। টমাস রেগনিয়ের বলেন, ‘শেইনের ওয়েবসাইটের ‘প্রলুব্ধকর ডিজাইন’ এবং প্ল্যাটফর্মের ‘গেমিফিকেশন’ ও ভোক্তাদের জন্য থাকা ‘রিওয়ার্ডস প্রোগ্রাম’ নিয়ে উদ্বিগ্ন কমিশন।’

‘রিওয়ার্ডস প্রোগ্রাম ছাড়াও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমগুলো প্রায়ই অস্বচ্ছ। এগুলো কীভাবে নকশা করা হয়েছে আপনি জানেন না, এবং আপনি কী দেখছেন তা নিয়ন্ত্রণেও নেই।’ ইসি তথাকথিত ‘রিকমেন্ডার সিস্টেম’-এর স্বচ্ছতাও পরীক্ষা করবে, যা ক্রেতার তথ্য ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পণ্য তার সামনে তুলে ধরে।

কমিশন জানিয়েছে, ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট (ডিএসএ) অনুযায়ী পণ্য সুপারিশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মানদণ্ড প্রকাশ করতে হবে শেইনকে। ব্যবহারকারীদের জন্য রাখতে হবে অন্তত একটি সহজলভ্য বিকল্প, যা তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে প্রোফাইলিং ছাড়াই।

কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হলে কমিশন প্রয়োজনে ‘প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা’ নিতে পারে। যেমন কোম্পানির বৈশ্বিক বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শেইন ২০২৪ সালে ৩৮ বিলিয়ন ডলার বিক্রির কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্রের ভাষ্য, গত কয়েক মাসে ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট (ডিএসএ) মেনে চলা জোরদারে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে শেইন। এর মধ্যে আছে বিস্তৃত পদ্ধতিগত ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রশমন কাঠামো। কমবয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য উন্নত সুরক্ষা।

    শেয়ার করুন: