স্টারমারের পদত্যাগ, ১০ বছরে ৭ জন

স্যার কিয়ার স্টারমার
দলের ভেতর ও বাইরে থেকে চাপ ছিল। তিন সপ্তাহ ধরে রিমঝিম তালে চলছিল গুঞ্জনও। ঢাকঢোলে ছড়িয়ে পড়ার আগেই দেশ এবং দলের প্রধান পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ব্রিটেনের ৮০তম প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। গত সোমবার লন্ডন সময় বেলা ১১টায় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। পদত্যাগ করলেও এখনো প্রধানমন্ত্রিত্ব চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্টারমার। ১ সেপ্টেম্বর হাউজ অব কমন্সের নতুন অধিবেশন শুরুর আগেই দলের নতুন নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তিনি। স্টারমার বললেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব। ক্ষমতা হস্তান্তর যাতে সুশৃঙ্খলভাবে হয়, তা নিশ্চিত করতেও সবকিছু করব।’
তার পদত্যাগে ১০ বছরের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে দেশটি। পদত্যাগের আগে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। কিয়ার স্টারমারের প্রস্তাব অনুযায়ী, লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ৯ জুলাই। পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগেই অর্থাৎ ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৪ সালে লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন স্টারমার। কিন্তু জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং একক নীতিগত অবস্থান বদলের কারণে তার জনপ্রিয়তা অনেকটাই কমে যায়। স্থানীয় নির্বাচনে নাইজেল ফরাজের রিফর্ম ইউকে পার্টির কাছে ধরাশায়ী হয়েছে লেবার। অভিবাসন নীতি নিয়েও ছিলেন চাপের মধ্যে। এপস্টিন ফাইলে নাম আসা পিটার ম্যান্ডেলসনকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায়ও তার সমালোচনা হয়। এত সমালোচনার ভিড়ে দলের ভেতরে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন স্টারমার।
স্যার কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। যাকে ভাবা হচ্ছে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, কিয়ার আমাদের দেশের জন্য বিশাল অবদান রেখেছেন এবং এমন একটি কঠিন সময়ে তার নেতৃত্ব ও নিষ্ঠার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তার এ সিদ্ধান্ত একটি পরিবর্তনের সূচনা করে এবং এই প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব। দেশ স্থিতিশীলতা, গাম্ভীর্য এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর অবিচ্ছিন্ন মনোযোগ প্রত্যাশা করে এবং সেটিই তারা পাবে। আমরা যখন সামনে এগিয়ে যাব, তখন দেশকে সেই জায়গায় ফিরিয়ে আনার জন্য একসঙ্গে কাজ করাই আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, যেখানে আমরা সবাই একে দেখতে চাই। মানুষ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি পরিষেবা, আবাসন এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুযোগের ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখতে চায়।




